সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকা মদের বিল দিতেন যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া

প্রতিদিন আড়াই লাখ টাকা মদের বিল দিতেন যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া

প্রতারণা, অর্থ পাচার, জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শনিবার তাদের গ্রেড্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা (২২)।

র‌্যাব জানায়, সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার সময় বহির্গমন গেট থেকে মফিজুর ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন থেকে পাপিয়া ও তায়্যিবাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১–এর একটি দল। পরে এদের কাছ থেকে জাল টাকা, ডলারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান র‌্যাব-১–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল। তিনি বলেন, হোটেল ওয়েস্টিনের ২১ তলার প্রেসিডেন্ট কক্ষটি গত নভেম্বর মাসে ভাড়া নেন পাপিয়া। তিনি গত তিন মাসে ওই কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করেছেন প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। ১৯ তলায় একটি বার রয়েছে, যেটি তিনি পুরোটাই বুক করে নিতেন। সেখানে প্রতিদিন তিনি আড়াই লাখ টাকা মদের বিল পরিশোধ করতেন। সব মিলিয়ে দেখা যায় গত তিন মাসে তিনি প্রায় তিন কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষকে।

র‌্যাব কর্মকর্তা শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়ার আয়কর ফাইল তলব করে দেখা গেছে, সেখানে তিনি বছরে ২২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। অথচ তার প্রতিদিন বারের বিলই আসে আড়াই লাখ টাকা। এত টাকার উৎস কোথায়? জানতে চাইলে পাপিয়া র‌্যাবকে জানিয়েছেন, যারা হোটেলে আসতেন, তাদের কাছে ‘মেয়ে’ পাঠিয়ে দেয়া হতো। এরপর অশ্লীল ভিডিও তুলে ওই সব ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। লোকলজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। এ রকম সাতজন উঠতি বয়সী তরুণীর সঙ্গে র‌্যাবের কথা বলা সম্ভব হয়েছে। যাদের মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন পাপিয়া। বিনিময়ে তাদের ব্যবহার করা হতো। কেউ রাজি না হলে তাদের লাঠি দিয়ে পেটাতেন পাপিয়া। আবার কোনো কোনো মেয়ের আপত্তিকর ছবি ‘বড়লোক’ কাস্টমারদের মুঠোফোনে পাঠিয়ে দিয়ে আগ্রহ তৈরি করতেন। এরপর ওই লোকগুলো এলে তাদের জিম্মি করা হতো।

র‌্যাবের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাপিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেটসংলগ্ন এলাকায় অংশীদারত্বে তার একটি ‘কার এক্সচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শোরুম আছে। এ ছাড়া নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

তিনি সমাজসেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক সহযোগিতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করতেন। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন। নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এ ছাড়া তার স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন।

শামীমা নুর পাপিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুমি সরকার। তিনি বলেন, পাপিয়ার বিষয়গুলো লোকমুখে তিনি শুনেছেন।

নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভুইয়া বলেন, অনেক দিন ধরেই পাপিয়া নানা অপকর্মে জড়িত। এলাকার এক এমপি তাকে হঠাৎ যুবলীগে ভিড়িয়েছেন। এর দায় তাকেই নিতে হবে।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তৌহিদা সরকার রুনা বলেন, ছয় বছর ধরে পাপিয়া যুবলীগের কমিটিতে রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য তার জানা ছিল না।

About bdlawnews

Check Also

প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে মাটি উত্তোলন, ভ্রাম্যমানে জেল ও জরিমানা

সে‌লিম রেজা: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির আজগড়া বেরিবাঁধ এলাকায় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ট্রাকদিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com