সদ্য সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / খুনের দায়ে হাতিকে ফাঁসি!

খুনের দায়ে হাতিকে ফাঁসি!

আমেরিকার অঙ্গরাজ্য টেনেসির এরউইন শহরে খুনের অপরাধে হাতিকেও ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। ১০০ বছর আগের সে ঘটনা আজও নজিরবিহীন।

সে সময় মাহুতকে খুনের অপরাধে ফাঁসি দেয়া হয় শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্কাসের অন্যতম আকর্ষণ ‘মেরি’ নামের একটি হাতিকে। আজও অপরাধবোধ যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় এই মার্কিন শহরের প্রতিটি বাসিন্দাকে। ১৯১৬ সালে পৃথিবীর সার্কাসের ইতিহাসে বিরলতম এ ঘটনাটি ঘটেছিল।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মাত্র ৮ বছর বয়স থেকে সার্কাসে খেলা দেখাতে শুরু করেন চার্লি স্পাইকস। এ সময় চার্লির বাবা চার বছর বয়সী ছোট্ট মেরিকে কিনে আনেন।

বছরখানেকের মধ্যে চার্লি আলাদা একটি সার্কাস দল তৈরি করেন। সেটির নাম ছিল স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো। এ সার্কাসে খেলা দেখাতে শুরু করে মেরি। মেরি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমতি এশীয় প্রজাতির বিশালাকার হাতি। মেরির দেখভালের জন্য একটি মাহুত ছিল বটে, তবে চার্লির কথাই বেশি মানতো সে। নিঃসন্তান স্পার্কস ও তার স্ত্রী অ্যাডি মিচেল নিজেদের সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন মেরিকে।

স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো এবং মেরির বুদ্ধিদীপ্ত কলা-কুশলের খবর দ্রুত আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ভার্জিনিয়ায় খেলা দেখানোর সুযোগ পায় স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো। সার্কাসের দল পৌঁছায় ভার্জিনিয়ায়। কিন্তু ভার্জিনিয়ায় যাওয়ার আগেই কোনো এক অজানা কারণে মেরির পুরনো মাহুত কাজ ছেড়ে চলে যায়।

ভার্জিনিয়ার সেইন্ট পল এলাকায় তাঁবু টানায় স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো-এর। এ সময় মেরির মাহুত হওয়ার জন্য স্থানীয় একটি হোটেলের কর্মচারী ওয়াল্টার রেড এলড্রিজ মেরির ট্রেইনার পল জ্যাকোবের কাছে আবেদন জানান। নাছোড় এলড্রিজের আবদার রেখে চার্লি তাকে হাতির দেখভালের দায়িত্বে নিয়োগ করেন। এলড্রিজকে হাতি দেখভালের যাবতীয় নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দেয়া হয়।

১২ সেপ্টেম্বর ১৯১৬, খেলা দেখানোর সময় এলড্রিজের নির্দেশ তেমনভাবে সাড়া দিচ্ছিল না মেরি। বিপাকে পড়ে মেরির মাথায় রডের খোঁচা দিয়ে তাকে বাগে আনার মরিয়া চেষ্টা চালায় এলড্রিজ। আর এতেই মেজাজ হারায় মেরি।

এলড্রিজকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছাড় মারে মেরি। পা দিয়ে পিষে দেয় এলড্রিজের মাথা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এলড্রিজের। আতঙ্কে সার্কাসের তাঁবু ছেড়ে পালিয়ে যান দর্শকরা।

চার্লি সবাকেই বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, সে দিনের ঘটনায় দোষ মেরির নয়, এলড্রিজের। কিন্তু চার্লির কথা তখন কেউ শুনতে রাজি হয়নি। শহরের বেশিরভাগ মানুষ একজোটে মেরিকে ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল রইলেন। অবশেষে ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ সালে মেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেন নিয়ে আসা হয়। মেরির গলার সঙ্গে ক্রেনের শেকল শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়।

নির্দেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেনটি পেতেই একটানে মেরিকে মাটি থেকে প্রায় বিশ ফুট উপরে ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু ক্রেনের শিকল ছিঁড়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে প্রায় ৫ টন ওজনের মেরি। মেরুদণ্ড ভাঙল, পাঁজর ভাঙল, গলার কাছে চামড়া-মাংস ছিঁড়ে রক্ত পড়তে লাগল। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি সেখানে উপস্থিত কয়েকশ’ মানুষ। গলায় শেকল বেঁধে ফের মেরিকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মেরি।

ঘটনার ১০০ বছর পেরিয়ে ওই শহরের নতুন প্রজন্ম হাতি সংরক্ষণের নানা উদ্যোগে শামিল হচ্ছে। মেরিকে স্মরণ করে প্রতি বছর বিশেষ তহবিল গড়ে হাতির দেখভালের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করছে। এ সবের মধ্যে দিয়ে এরউইন শহরের বর্তমান নাগরিকরা যেন ১০০ বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষের করা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছে। খবর জি নিউজ।

About bdlawnews

Check Also

সেনাপ্রধানের কাছে ভারতের একলাখ ডোজ টিকা হস্তান্তর

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ভারতে উৎপাদিত একলাখ ডোজ করোনার টিকা হস্তান্তর করেছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com