সদ্য সংবাদ
Home / ভিডিও সংবাদ / ক্রাইম নিউজ / ইউপি চেয়ারম্যান হত‌্যা মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

ইউপি চেয়ারম্যান হত‌্যা মামলায় আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান বদর খন্দকার (৪০) হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল শিকদারকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানীর ঝিগাতলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলটন কুমার দেবদাস।

গ্রেফতার হওয়া নজরুল শিকদার লোহাগড়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি নিহত বদর খন্দকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নজরুল শিকদারের বড় ভাই ইবাদত শিকদার, ভাইপো জাকারিয়া শিকদার ওরফে গফফার, ভাগ্নে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আজাদ সুজন, চাচাতো ভাই এনায়েত শিকদারসহ ১৬ জন।

নিহত বদর খন্দকার লোহাগড়ার চরবগজুড়ি গ্রামের ময়ের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ইমি

এসআই মিলটন কুমার দেবদাস জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে বদর খন্দকার চরকালনায় নিজের ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি লোহাগড়া-নড়াইল সড়কের টি-চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এলে বদরকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বদর খন্দকারের বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল এবং ডান হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশও প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। এরপর বদরকে খুলনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিন বদর খন্দকারের কাছে থাকা ইট বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকাও আসামি আকবর খন্দকার নিয়ে গেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বদর খন্দকারের স্ত্রী নাজমিন বেগম বাদী হয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে লোহাগড়া থানায় নজরুল শিকদারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এসআই আরো জানান, নজরুল শিকদারসহ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মতিউর রহমান মুন্না মোল্যা, রুহুল আমিন, রফিক মোল্যা, আলী মিয়া মোল্যা ও বাবু মোল্যা। এর মধ্যে মুন্না মোল্যা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বদর খন্দকার হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা বদর খন্দকার হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে গত ১০ মার্চ বেলা ১১টার দিকে নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের টি-চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে এলাকাবাসী। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একই দাবিতে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন এলাকাবাসী।

About bdlawnews

Check Also

পদত্যাগ করলেন রাবি রেজিস্ট্রার এম এ বারী

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এম এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com