সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / বিচার বিভাগের স্বাধীনতার রক্ষার মূল দায়িত্ব বিচারকদের: জিনাত আরা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার রক্ষার মূল দায়িত্ব বিচারকদের: জিনাত আরা

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে আমরা যখন বিচারকের আসনে আসীন হই, তখন আমাদের সকলের উচিত শপথের প্রত্যেকটি শব্দ আমাদের মাঝে ধারণ করা। বিশেষ কোন আইনজীবী দাঁড়ালেন, কোন রাজনৈতিক ব্যক্তির মামলা, কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির মামলা এসব বিবেচনা না করে সবাইকে একইভাবে বিচার প্রদান করাই আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধানে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে জনগণের জন্য কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেয়া বিদায়ী সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি জিনার আরা এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বিচারক ও আইনজীবীদের ওপর সমানভাবে বর্তায়। আইনজীবীদের সার্বিক সহযোগিতা ব্যতীত বিচার কাজ সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টসহ সকল অধস্তন আদালতের বিচারকবৃন্দের স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার নেপথ্যে আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে বিচারপ্রার্থী জনগণকে সহায়তা করতে হবে। আমি আশা করবো আপনারা দলমত নির্বিশেষে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। বিচার বিভাগের প্রতি যেন জনগণের আস্থার সংকট না হয়, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি যেন সমুজ্জ্বল থাকে আইনজীবীরা সে ব্যাপারে সব সময় সজাগ থাকবেন। মনে রাখবেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার মূল দায়িত্ব আমাদেরই।

তিনি বলেন, আমার এই দীর্ঘ বিচারক জীবনে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে বিচারপ্রার্থীকে ন্যায় বিচার দিতে। দুই পক্ষকে শুনে এবং সংশ্লিষ্ট আইন পর্যবেক্ষণ করে আমার কাছে যা সঠিক মনে হয়েছে আমি সেভাবে বিচার করতে চেষ্টা করেছি। কতটুকু সফল হয়েছি তা মূল্যায়ন করবেন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও দেশের জনগণ।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল আমি হাইকোর্টের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেই। ওইদিন আমার মন ছিলো বিষণ্ণতায় ভরা। আমার পিতা মাত্র তিন মাস পূর্বে ইন্তেকাল করেন। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল আমি বিচারপতি হচ্ছি। আমার পিতা আমাকে বিচারপতি হিসেবে দেখার জন্য উন্মুখ ছিলেন, অথচ দেখে যেতে পারেননি।

তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর আমি মুন্সেফ হিসেবে চাকরিতে যোগদান করি। ৪১ বছরের উর্দ্ধকালের কর্মজীবনের শেষে আজ অবসরে যাচ্ছি। শেষের কয়েকটা মাস মনে হচ্ছিল দ্রুত সময় কেটে গেলেই আমার মুক্তি। কিন্তু আজ মুক্তির স্বস্তি থাকলেও বিচারাঙ্গন থেকে সকলকে ছেড়ে যেতে যে বিষণ্ণতা কাজ করছে তা অস্বীকার করি কি করে?

বিচারপতি জিনাত আরার উদ্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনি রাগ, বিরাগ বা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কোন আদেশ দেননি। আপনি যেখানেই থাকুন নারীর উন্নয়নে অবদান রাখবেন সেটাই প্রত্যাশা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন বলেন, বিচারক হিসেবে আপনার দীর্ঘ কর্মজীবন সফলতায় ভরা। আপনি বিভিন্ন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ তা মনে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিচারপতি জিনাত আরা হলেন দেশের দ্বিতীয় নারী বিচারক। যিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে তার কর্মময় জীবন শেষ করলেন। দেশের প্রথম নারী বিচারক ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

About bdlawnews

Check Also

সৌদিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যার বিচার শুরু

পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকের মৃত্যু কিংবা অত্যাচারের খবর নতুন নয়। পরিসংখ্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com