সদ্য সংবাদ
Home / অর্থনীতি / অর্থনীতিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন

অর্থনীতিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন

যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশে বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চারটি মূলনীতির ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও তিনি সুষম একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেন। দারিদ্র্যকে জয় করে তার সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল।

১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের মাত্র ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় গত ১৬ মার্চ দিন শেষে ৩ হাজার ২শ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ মুহূর্তে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। শুধু রপ্তানি কিংবা জিডিপ নয়, দেশের বাজেটের আকার থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রে এসেছে সফলতা। বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন অর্জনকে বিস্ময়কর বলছেন পৃথিবী বিখ্যাত অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশের এ উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এসেছে বিশ্ব স্বীকৃতিও। স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বহু পথ এগিয়েছে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প কোনো প্রকার বৈদেশিক সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। মূলত ১৯৭১ সালে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এ দেশের মানুষ। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর সে স্বপ্ন অর্জনের পথে অনেকটাই এগিয়েছে দেশ। আর এ স্বপ্ন পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে রপ্তানি খাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, আবহমান বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটা টেকসই অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে তোলার যে বাস্তবানুগ পরিকল্পনা বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন সেই ভিত্তির ওপরই আজকের বাংলাদেশে সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তিভ‚মি তৈরি হয়েছে- বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল মাত্র ৪৫০ কোটি ডলার। বর্তমানে নমিনাল জিডিপির আকার ৩১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তবে ক্রয়ক্ষমতার বিবেচনায় তা ৮৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এছাড়া ওই সময়ে মাথাপিছু আয় ছিল ৬০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৯১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাট থেকে রপ্তানি আয় আসত ২৭ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৬৫ শতাংশ ছিল। বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি : যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল ঋণাত্মক দিয়ে। ওই সময় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাইনাস ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এরপর থেকেই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে প্রবৃদ্ধি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চ‚ড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে।

মাথাপিছু আয়: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ছিল মাত্র ১২৯ মার্কিন ডলার।

রিজার্ভ: ১৯৭৩ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল ১৭৩ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ কোটি ৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছর শেষে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে কিছুটা কমে আসলেও বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবস্থান করছে ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। যা প্রতি মাসে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাজেট: স্বাধীনতার পর থেকে (১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৯-১৯২০) দেশে জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে ৪৩২ গুণ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়ে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

রেমিট্যান্স আয়: স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ছিল ১৬.৩৫ মিলিয়ন বা এক কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত সাড়ে চার দশকে তা বেড়েছে কয়েকশ গুণ। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক দশকে রেমিট্যান্স আয় প্রায় সাড়ে তিনগুণ বা ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ: সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে ব্যাপক। সেই সঙ্গে বেড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগও। গত এক দশকে বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ৪-৫ গুণ। চলতি বছরের ৯ মাসে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) ৫০ হাজার ১১৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

রাজস্ব আয়: স্বাধীনতার পর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৪২ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। সর্বশেষ করদাতার সংখ্যা ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে।

About bdlawnews

Check Also

ডি-এইট বা উন্নয়নশীল আট দেশের জোট এর সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডি-এইট বা উন্নয়নশীল আট দেশের জোট এর সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার বছরের জন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com