সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / গুজবে বিশ্বাস করবেন না, গুজব ছড়াবেন না: মনিরুল

গুজবে বিশ্বাস করবেন না, গুজব ছড়াবেন না: মনিরুল

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস আঘাত হেনেছে বাংলাদেশেও। ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে সরকার।

সাধারণত সচেতনতাই এ রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই এটি নিশ্চিত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনী।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট’-এর প্রধান মনিরুল ইসলাম তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। পাঠকদের পড়ার সুবিধার্থে হুবহু তা তুলে ধরা হলো।

‘ছাত্রজীবন ও চাকুরীজীবন মিলিয়ে অনেকদিনই ঢাকায়। ছাত্রজীবনে না হ’লেও চাকুরীজীবনে বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া কর্মস্থলেই ঈদ করি। আমার অনেকদিনের অভ্যাস হ’লো ঈদের আগের ও পরের দিন ঢাকার অলিগলি ঘুরে দেখা। যেহেতু কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যায় সেহেতু রাস্তাঘাট খুব ফাঁকা থাকে। তবে অলি গলির মোড়ের দোকান খোলা থাকে যেখানে প্রচুর সংখ্যক স্থানীয় মানুষ ঘোরাফেরা করে, আড্ডা দেয়। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের চাঁন রাত অর্থাৎ ঈদের চাঁদ দেখা গেলে অলিগলির বাসাগুলো থেকে ছেলেরা বেরিয়ে আসে, জম্পেশ আড্ডা দেয়। করোনার ভ্যাকেশনে প্রতিদিনই কমবেশী অফিস করি, সরেজমিনে আমাদের পুলিশের যে সমস্ত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে তাদের কাজ দেখি। তার অংশ হিসেবেই আজ দুপুরে বাসাবোর গলিতে গিয়ে মনে হলো ঈদের চাঁদ দেখা গেছে, সবাই কেনাকাটা করছে। কেউ তরমুজ, কেউ পেঁপে, কেউ আনারস, কোকের বোতলও দেখা গেলো কারো কারো হাতে। পুলিশ দেখে মনে হলো কিছুটা ঘাবড়ালেও আড়ালে আবডালে মোবাইলে পুলিশ কি করে তা ভিডিও করার জন্য কেউ কেউ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে।

মহামারীর ইতিহাস জানি বলেই বিশ্বাস করি যে করোনার ঔষধ কিংবা ভ্যাকসিন বেরুলে নভেল Covid19 কেবলমাত্র ভাইরাল ফেভার হয়ে যাবে যা দু’দিন ঔষধ খেলে সেরে যাবে। কিন্তু যতদিন তা না হয় ততদিন করোনা মহামারীই হিসেবেই প্রানহরণ করতে থাকবে। আমি জানি এই লেখা আপনারা যারা পড়বেন তারা কেউ কেউ ঔষধ কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কার দেখবেন না, আমি নিজেও দেখতে না পারি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বেঁচে থাকবেন, তা দেখবেন এবং সুবিধা গ্রহন করতে পারবেন। সেটি দেখবেন কি-না, সে সিদ্ধান্ত কিন্তু আপনার। ঢাকা শহরের অলিগলি, রাস্তাঘাট কিন্তু ঠিকই থাকবে, চায়ের দোকান থাকবে, থাকবে মসজিদ, মন্দিরসহ উপাসনালয়। করোনা থেমে গেলে এসব দেখার সুযোগ থাকবে। যদি এগুলো দেখতে চান, বেঁচে থাকতে চান তা’হলে পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীকে ফাঁকি দেবেন না, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।
ঘরে থাকুন, ঘরে থাকুন এবং ঘরে থাকুন;
স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলুন;
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য গনমাধ্যমের সঙ্গে মিলিয়ে নিন;
গুজবে বিশ্বাস করবেন না, গুজব ছড়াবেন না;
সতর্ক থাকুন, নিজে বাঁচুন, পরিবারের সদস্যদের বাঁচান, মানুষ বাঁচান।

আপনাদের জন্য শুভ কামনা!!!’

About bdlawnews

Check Also

সৌদিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যার বিচার শুরু

পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকের মৃত্যু কিংবা অত্যাচারের খবর নতুন নয়। পরিসংখ্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com