সদ্য সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / নিউ জিল্যান্ডে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

নিউ জিল্যান্ডে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে

নিউ জিল্যান্ডে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রোগে মোট এক হাজার ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংক্রামক রোগ হামে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। রোগিটির প্রতিষেধক টিকা থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে কয়েকটি উন্নত দেশে এই রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বব্যাপী হামে আক্রান্তের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। নিউ জিল্যান্ডে হামের প্রাদুর্ভাব মূলত দেশটির সবচেয়ে বড় শহর অকল্যান্ড ঘিরে। সেখানে ৮৭৭ জন নিশ্চিত আক্রান্তকে দেখা গেছে। এই রোগের টিকা না নেওয়া থাকলে দেশটির ১২ থেখে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিককে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

টিকাদান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. নিক্কি টার্নার দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউজহাবকে  বলেন, মাইলফলকে পৌঁছানোর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি অনুমানযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য হওয়ার পরও এটা ঠেকাতে না পারা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক’। অসুস্থতা অনুভব করা মানুষদের কাজ, স্কুল বা জনসমাগমের স্থান পরিহার করে অন্যদের ঝুঁকিতে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছে কতৃর্পক্ষ। এছাড়াও অকল্যান্ডে যাওয়ার দুই সপ্তাহ আগে হামের প্রতিষেধক টিকা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউ জিল্যান্ড সফরের আগে হামের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।

হাঁচি-কাশির মধ্য দিয়ে ছড়ানো অসুস্থতা হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। এতে আক্রান্ত রোগী বেশিরভাগ সময়ই সুস্থ হয়ে উঠলেও এর মাধ্যমে জীবনশঙ্কা তৈরি করা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘১৯৬৩ সালে এর টিকা প্রচলন ও বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রতি ২-৩ বছরে বড় ধরণের মহামারীর কারণ ছিলো হাম। প্রতিবছর এই রোগে মারা যেত প্রায় ২৬ লাখ মানুষ’। তবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।  ওই বছরে এই রোগটি আবারও ছড়াতে শুরু করে।

এই বছরের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায় যুক্তরাজ্যসহ চারটি ইউরোপীয় দেশকে এখন আর হামমুক্ত বলে বিবেচনা করা হবে না। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়ালসে ৯৯১ জন নিশ্চিত আক্রান্তের ঘটনা জানা যায়। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিলো ২৮৪। উন্নত দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপের সঙ্গে সন্তানদের এই রোগের টিকা দানে বাবা-মায়ের অনীহার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। অনেক বাবা-মাই ধর্মীয় বা মনস্তাত্ত্কিক কারনে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। আবার অনেকেই মনে করে থাকেন এই টিকার সঙ্গে অটিজমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

About bdlawnews24

Check Also

সেনাপ্রধানের কাছে ভারতের একলাখ ডোজ টিকা হস্তান্তর

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ভারতে উৎপাদিত একলাখ ডোজ করোনার টিকা হস্তান্তর করেছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com