সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / সাত খুনের ৬ বছর আজ: রায় কার্যকরের আশায় স্বজনরা

সাত খুনের ৬ বছর আজ: রায় কার্যকরের আশায় স্বজনরা

বছর ঘুরে বছর আসে। এক এক করে কেটে গেল ছয়টি বছর। ২ হাজার ১শ’ ৯০দিন। তারপরও একটি দিনের জন্যও স্বজনহারাদের আর্তনাদ কমেনি একটুও। প্রতিটি মুহূর্তেই লাশের স্মৃতি আর স্বজন হারানোর বেদনায় নীরবে নিভৃতে ডুকড়ে কেঁদে উঠেন পরিবারের মানুষগুলো। তাদের একেকটি মূহুর্ত কাটে গভীর হতাশার দীর্ঘশ্বাসে।

তবুও আশায় বুক বেঁধে প্রহর গুনছেন স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রতিটি মানুষ। কবে আসবে কাংখিত সেই দিন? আদৌ কি খুনীদের বিচার হবে? ফাঁস্যার রায় কার্যকর হবেতো? জীবিত অবস্থায় আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন দেখার সৌভাগ্য হবে ? এসব নানা প্রশ্ন নিয়ে ছয়টি বছর পার করলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় নিহত সাত পরিবারের অসহায় স্বজনরা। প্রতিটি পরিবারের একই চিত্র।

মা বাবার কলজে ছেঁড়া আকুতি, স্ত্রীর ভালোবাসার শূন্যতা আর বটবৃক্ষ বাবার অনুপস্থিতি, প্রতি মুহূর্তেই অশ্রুসজল পরিবারের প্রতিটি সদস্য খুঁজে ফেরে স্বজনের ভালোবাসা। ঘুমের মধ্যেও আঁতকে উঠেন তারা ৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া সাত খুনের নৃশংসতায়। দেশব্যাপী আলোচিত সাত খুনের ছয় বছর আজ ২৭ এপ্রিল।

উচ্চ আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শেষে আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ের ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আদালতের রায় কার্যকর হয়নি এখনো। এতে বিচার নিয়ে হতাশ নিহতদের স্বজনরা। সবার মাঝে এখনও বিরাজ করে ভয়ঙ্কর খুনি নূর হোসেন আতঙ্ক। এছাড়া উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হলেও তারা পাননি কারো কোনো সহযোগিতা। এ নিয়ে তাদের মাঝে আক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নেই।

এদিকে আলোচিত এই সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেন আতঙ্ক এখনও তাড়া করে স্থানীয়দের। তারা মনে করেন, রায় দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় ফের অপরাধের রাজত্ব গড়ে তুলছে সন্ত্রাসীরা। এরমধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসন, সাঈদ তারেকসহ ১৩ জন রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করা হয়েছে।

মামলার বাদি নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এই রায়ের ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা চাই, হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন তা আপিল বিভাগেও বহাল থাকুক এবং দ্রুত খুনিদের রায় কার্যকর করা হোক। আমরা সবাই আশা নিয়ে বসে আছি সাত খুন হত্যার বিচার হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের দাবি, তারাও চান এ মামলার যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়ে কার্যকর হোক।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদালতে একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিয়ে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, নজরুলের সহযোগী ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী মনিরুজ্জামান স্বপন, জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম ও স্বপনের প্রাইভেট কারের চালক জাহাঙ্গীরকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনা দেখে ফেলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকেও অপহরণ করা হয় এই ছয়জনের সাথে।

অপহরণের তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলার শান্তিরচর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একে একে উদ্ধার হয় সাতজনের লাশ। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুইটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় মর্মাহত হন পুরো দেশবাসী। দেশ ছাড়িয়ে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা তোলপাড় হয় আন্তর্জাতিক ভাবেও। তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয় বিশ্বজুড়ে।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এক বছর তদন্ত শেষে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এম এম রানা ও নূর হোসেনসহ ৩৫ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

পরে ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাত খুন মামলার রায়ে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা ও সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালতও নূর হোসেন এবং র্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং অপর ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রাখা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এরপর গত ৩ মার্চ আসামিরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

About bdlawnews

Check Also

সৌদিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যার বিচার শুরু

পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকের মৃত্যু কিংবা অত্যাচারের খবর নতুন নয়। পরিসংখ্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com