Home / অনিয়ম / ১৫ বানর হত্যা, একাধিক মামলা

১৫ বানর হত্যা, একাধিক মামলা

মাদারীপুরের চরমুগরিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ১৫টি বানর হত্যার ঘটনায় শাহানা বেগম নামে একজন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১০ মে) বিকালে তাকে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়। আটক শাহানা বেগম মধ্যখাগদী গ্রামের লতিফ হাওলাদার ওরফে লতু হাওলাদারের স্ত্রী। পুলিশের অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ ওই নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী বানরের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে খাবারে বিষ প্রয়োগের কথা স্বীকার করেন।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘এর আগেও ওই এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে ৮টি বানর হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার সূত্র এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়। একজন দোষী না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহানাজ বেগম বানর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, ৫ মে বিকালে মাদারীপুর পৌরসভার ৯নং ওর্য়াডের চরমুগরিয়ার মধ্যখাগদি এলাকায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিলে অনেকগুলো বানর মারা যায়। স্থানীয়রা বানরগুলোকে মৃত ও অর্ধমৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে এক জায়গায় জড়ো করে। সব মিলিয়ে ১৫টি বানরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যেই বানরের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে নামে পুলিশ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সামাজিক বনবিভাগ কর্তৃক আদালতে একটি মামলা ও মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদারীপুরের একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য চরমুগরিয়ার বানর। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কষ্ট পেয়েছি। জেলা প্রশাসক হিসেবে এই ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। তাই এই বানরগুলোকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করতে বনবিভাগকে নির্দেশনা দেই। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, মাদারীপুরের চরমুগরিয়ায় আড়াই হাজারের বেশি বানর রয়েছে। দেশে মানুষের বসতির মধ্যে শুধু চরমুগরিয়াতেই দেশের সবচেয়ে সংখ্যক বানরের বসবাস। শত বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এতগুলো বানরকে এক সাথে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। চরমুগরিয়ার আড়াই হাজারের বেশি বানরকে সামাজিক বনবিভাগের মাধ্যমে খাবার প্রদান করা হয়। এছাড়াও বানরদের স্থায়ী আবাসনের জন্য চরমুগরিয়া বন্দরের পাশে নয়াচরে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে একটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও বানরগুলোকে সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

About bdlawnews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com