Home / আইন আদালত / শনিবার পর্যন্ত বগুড়ায় মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্যে করোনা পজিটিভ

শনিবার পর্যন্ত বগুড়ায় মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্যে করোনা পজিটিভ

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে লড়াই করছেন যারা তাদের মধ্যে অন্যতম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্য বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অন্যকম কারন হলো শহরে নিয়ন্ত্রণহীন জনস্রোত সামলাতে পুলিশের কঠোর চেষ্টা। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নিরাপদ দূরত্ব থেকে সেটি সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। এ কারণে একেরপর পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

গত শনিবার পর্যন্ত বগুড়ায় মোট ২৩ জন পুলিশ সদস্যের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এই ২৩ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২১ জন বগুড়া জেলার এবং অপর দুজনের বাড়ি বগুড়া হলেও তাদের কর্মস্থল অন্য শহরে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একজন সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন। তিনি হলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল ও আদমদীঘি উপজেলার শাঁওইল গ্রামের বাসিন্দা আহসান হাবীব। বগুড়ায় প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীও ছিলেন এই পুলিশ সদস্য।

এরপর বগুড়ায় একের পর এক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার বগুড়ায় এক সঙ্গে ১২ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্ত সদস্যরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গোয়েন্দা শাখা, আদালত এবং পুলিশ লাইনসে কর্মরত। তাদের জেলা পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, করোনা আক্রান্ত ২৩ জন পুলিশের মধ্যে ২১ জনই বগুড়া জেলার, বাকি দুজন ঢাকায় কর্মরত। একের পর এক পুলিশ সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি জাতীয় দুর্যোগ। এই দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে গিয়ে পুলিশের যারা মাঠে কাজ করছেন তাদের পাশাপাশি কর্মকর্তারও আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এতে করে তাদের কারো মনোবল নষ্ট হয়নি। মানসিকভাবে সবাই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও মানসিক শক্তি প্রবল। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজনও পুলিশ সদস্য যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত করোনার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতার লড়াই চালিয়ে যাবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া জেলা প্রশাসনিকভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও শুরু থেকেই লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসনের জোড়ারো কোনো তৎপরতা ছিল না। তবে মাঠে শক্ত অবস্থানে ছিল পুলিশ। গত ১০ মে থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হলে শহরে জনস্রোত নামে। জনজট কমাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশের। এ কারণে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, আমরা প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তার দিকে শুরু থেকে নজর রেখেছি। তারপরেও করোনা একটি ক্রিটিক্যাল রোগ হওয়ায় অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন অসুস্থদের প্রয়োজনীয় সব সাপোর্টই দেওয়া হচ্ছে।

About bdlawnews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com