সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / ত্রাণের তালিকায় ঘষামাজা করে ধরা খেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

ত্রাণের তালিকায় ঘষামাজা করে ধরা খেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

গরিবের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ উচ্চবিত্তদের দেয়া এবং ত্রাণ গ্রহণকারীর নামের তালিকায় ঘষামাজার অপরাধে ফেঁসে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন লিয়াকত। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের পর উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যানের এ অপকর্মের সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ত্রাণ বিতরণের অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসনে এসেছে। আমি বলেছি বিষয়টি নথিতে উত্থাপনের জন্য। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কিন্তু হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত এসব ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করেন। ফলে এলাকার শত শত অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

চেয়ারম্যানের ত্রাণের তালিকায় রয়েছে তার শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকপুত্র, সমন্ধির বউ, তৃতীয় স্ত্রীর বড়বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন। অনেকেই আবার একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মিরপুর বাজারের কয়েকজন বিত্তশালীসহ ১৮ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এমনকি ত্রাণ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গায়েবি তালিকা করা হয়েছে এবং বাবা ও স্বামীর নামেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও গড়মিল। আবার অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও ত্রাণ না দিয়ে তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ত্রাণ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় রয়েছে ঘষামাজারও অভিযোগ।

এর প্রেক্ষিতে গত ১১ মে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন এলকাবাসী। এতে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের পদত্যাগ চাই, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভেস্তে যেতে দেব না, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় চাল চোরের ঠাঁই নাই, চাল চোর ও চাল আত্মসাতকারী চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষ স্লোগান দেন।

এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ত্রাণের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার আমাদের হাতে না দিয়ে স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। অন্য ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তিসহ শতাধিক ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

About bdlawnews

Check Also

করোনায় আরো ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০১৪

করোনাভাইরাসে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com