Home / Uncategorized / পর‌কীয়ায় বাধা দেওয়ায় ছে‌লেকে দি‌য়ে স্বামী‌কে হত্যার ১১ মাস পর রহস্য উদঘাটন,

পর‌কীয়ায় বাধা দেওয়ায় ছে‌লেকে দি‌য়ে স্বামী‌কে হত্যার ১১ মাস পর রহস্য উদঘাটন,

বি‌ডি ল নিউজ ডেস্কঃ বগুড়া সোনাতলা নৃশংস বীভৎস অচিন্তনীয় এক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পর নিহত কৃষক রফিকুলের লাশ উত্তোলন এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ। হত্যায় জড়িত মহিদুল এবং শাকিল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের দেয়ার তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের গলিত মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এরপর হত্যার সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরকীয়া প্রেমের বাধা সরাতেই কৃষক রফিকুলকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়া জেলা পু‌লিশ টীম
২০১৯ সালের পহেলা জুলাই সোনাতলা থানায় একটা হারানো জিডি হয়েছিল(জিডি নং ২৫)। সেখানে জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে সোনাতলা সদর ইউনিয়নের রানিরপাড়া গ্রামের পেশায় কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৭) নামক এক ব্যক্তি নিখোঁজ আছে মর্মে জানানো হয়েছিল। জিডিটি করেছিলেন নিখোঁজ ব্যক্তির ভাই শফিকুল যদিও তার স্ত্রী এবং তিনটি সন্তান ছিল। সোনাতলা থানার পাশে প্রবাহিত যমুনা নদী দিয়ে গত একবছরে অনেক পানি গড়িয়েছে কিন্তু হাল ছাড়েননি টিম সোনাতলা, সার্কেল এএসপি কুদরত ই খুদা শুভ লেগে ছিলেন,লেগে ছিলেন  চৌকশ ইন্সপেক্টর তদন্ত জাহিদ।
ঘটনার প্রায় একবছর পর গতরাতে সোনাতলা উপজেলার তেকানি চুকাইনগরের শাকিল (২২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলে আটক করা হয় নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী রেহানা এবং ছেলে জসিমকে। এরপর স্ত্রীর গোপন প্রেমিক মুহিদুলকে। মুহিদুল রফিকের প্রতিবেশী। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা একপর্যায়ে স্বীকার করে যে মুহিদুল, রফিকুলের বউ রেহানা,ছেলে জসিম এবং রেহানার বোনের ছেলে শাকিল মিলে রফিকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার লাশ বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বগুড়া সোনাতলা রেললাইনের পাশে প্রায় তিনফুট গর্ত করে পুঁতে রেখেছিল।
খুনের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পরকীয়া প্রেমের পথের বাধা সরাতেই রফিকুলকে মেরে ফেলার প্ল্যান করে রেহানা এবং মুহিদুল। ছেলেকে বাবার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানসিক ব্ল্যাকমেইল করে পক্ষে নিয়ে এসে পিতৃহত্যার মতো ঘৃণ্য কাজে জড়িত করে মা রেহানা। ঘটনাচক্রে শাকিল জড়িয়ে যায়। ঘটনার দিন মুহিদুল এবং জসিম ঘুমের বড়ি এনে রাতের খাবারের সাথে মিশিয়ে রফিকুলকে খাইয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করিয়ে গলা টিপে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে চারজনই সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এরপর শাকিল, মুহিদুল এবং জসিম লাশ ঘাড়ে করে রেললাইনের পাশে নিয়ে পুঁতে রাখে।
আজ শুক্রবার পুলিশ সুপার মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার স্যার এর উপস্থিতিতে পানির মধ্য থেকে গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় আশেপাশের কয়েকগ্রামের কয়েক হাজার লোক জমায়েত হয়েছিল।

About bdlawnews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com