সদ্য সংবাদ
Home / অর্থনীতি / শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

শর্তসাপেক্ষে কালো টাকা, অপ্রদর্শিত অর্থে কেনা ফ্ল্যাট ও জমি বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবারের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করবেন, সেখানে এ বিষয়টি উল্লেখ থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, শর্ত সাপেক্ষে ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিয়ে শেয়ারবাজার, স্টক ডিভিডেন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিভেঞ্চার খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকছে। আয়কর রিটার্নের বাইরে থাকা অপ্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র পুনরায় রিটার্ন দাখিলের শর্তে ১০ শতাংশ হারে বাড়তি শুল্ক দিয়ে বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও  জানায়, আয়কর  অধ্যাদেশের ১৯ডিডি ধারা অনুযায়ী, ১০ শতাংশ কর দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করা যায়। আন্ডার ইনভয়েসিং-ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে আয়কর  অধ্যাদেশে নতুন ধারা (১৬এইচ) যুক্ত করা হবে। এ ধারা অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আন্ডার ইনভয়েসিং বা ওভার ইনভয়েসিং ধরা পড়লে গোপন করা বা পাচার করা অর্থের  ৫০ ভাগ জরিমানা আদায় করা হবে।

এছাড়াও এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের উৎসে কর বাড়িয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে, ও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এ হার হচ্ছে দশমিক ২৫ শতাংশ। তৈরি পাশাক খাতের করপোরেট কর আগের হারই বহাল থাকছে বলে জানা গেছে।

আয়কর অধ্যাদেশের ১৯-এ ধারা অনুযায়ী, অপ্রদর্শিত অর্থে কেনা ফ্ল্যাট ও জমি উভয়ের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে শুল্ক দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত শুল্ক হার এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হবে। তবে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা পরবর্তীতে প্রমাণিত হলে বাড়তি কর পরিশোধ করার বিধান রাখা হচ্ছে এবারের বাজেটে।

সূত্র জানায়, আয়কর অধ্যাদেশের একই ধারা অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তালিকাভুক্ত স্টক, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং সরকারি বন্ড ও ডিভেঞ্চারে অপ্রদর্শিত অর্থ তিন বছরের জন্য বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ৩ বছর আগে বিনিয়োগের টাকা উত্তোলন করলে করদাতাকে সাধারণ হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৪ হাজার টাকা, ফ্ল্যাটের আয়তন  এর বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং এর চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের অন্য সব এলাকা এবং অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২০ বর্গমিটার ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৭০০ টাকা, ১২০ থেকে ২০০ বর্গমিটারের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ৮৫০ টাকা এবং ২০০ বর্গমিটারের চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য ১৩০০ টাকা, জেলা শহরের পৌরসভা এলাকায় একই আয়তনবিশিষ্ট ফ্ল্যাটের জন্য যথাক্রমে ৩০০, ৪৫০ এবং ৬০০ টাকা এবং দেশের অন্য সব এলাকার ক্ষেত্রে একই আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য ২০০, ৩০০ ও ৫০০ টাকা কর ধার্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার জন্য প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী,  সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকার জন্য ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার জমির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ৫ হাজার টাকা, জেলা শহরের পৌরসভা এলাকায় এক হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্য এলাকার জন্য ৫০০ টাকা হারে বাড়তি কর দিতে হবে।

About bdlawnews

Check Also

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com