সদ্য সংবাদ
Home / অর্থনীতি / চাপে থাকবে এনবিআর

চাপে থাকবে এনবিআর

২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উত্থাপন করা প্রস্তাবিত এই বাজেটে এনবিআর ও এনবিআরবহির্ভূত খাত মিলিয়ে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে ভ্যাট থেকে। এই খাতে এনবিআরকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আয়কর থেকে আদায় করতে হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাত থেকে আদায় করতে হবে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এনবিআরকে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। বাধ্য হয়ে সরকারকে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে না। লক্ষ্যমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে কর্মকর্তারা একদিকে চাপে থাকবেন, অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারার একটা গ্লানি ভেতরে ভেতরে কাজ করবে।’

এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এনবিআরকে চাপিয়ে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা যে পূরণ হবে না, তার প্রমাণ পাওয়া যায় এনবিআর চেয়ারম্যানের লেখা চিঠিতেই। এতে আরেকটি বিষয় উঠে উঠেছে। এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা না করে সরকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনার এই বাস্তবতায় সরকারের উচিত ছিল এনবিআরের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘এনবিআরের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করা ঠিক হবে না। কারণ, করোনার এই বাস্তবতায় বিভিন্ন সেক্টরে ছাড় দিতে হচ্ছে। আয়করে ছাড় দিচ্ছে। ভ্যাটেও ছাড় দিতে হচ্ছে। ফলে আদায় করতে পারবে না। এনবিআরের জন্য চাপ হবে। কিন্তু তাদের কিছুই করার থাকবে না।’

এনবিআরের ওপর সব সময়ই চাপ থাকে উল্লেখ করে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘বাজেট যেহেতু উচ্চাভিলাষী, কাজেই অর্জন করতে না পারলেও এনবিআর কর্মকর্তাদের দোষ দেওয়া ঠিক হবে না।’

এর আগে রাজস্ব আয়ের বাস্তব ও প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদারকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জানান, ‘এনবিআরের চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে না। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তাও অর্জন করা সম্ভব হবে না। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বড়জোর ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় হতে পারে। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে এনবিআরের আদায় কমবে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।’

২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আশাবাদী নন। কারণ, ১ জুলাই থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও স্থানীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া রেখে যাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান চিঠিতে জানান, ‘বর্তমান অর্থবছরের সম্ভাব্য আদায়ের ওপর আগের গড় প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ ধরে হিসাব করলেও আগামী অর্থবছরের মোট আহরণ ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। এনবিআর রাজস্ব সংগ্রহ করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আয়কর ও শুল্ক— এই তিন খাত থেকে। এরমধ্যে মূসক থেকে ৯৭ হাজার ৫৯ কোটি, আয়কর থেকে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৭৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকা আসতে পারে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আহরণকারী কর্মকর্তাদের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়। অসম্ভব বিবেচনা করে অনেকে একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে করদাতাদের ওপর হয়রানির অভিযোগও আসে। আর লক্ষ্যমাত্রা যৌক্তিক হলে রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে তা অর্জনের প্রচেষ্টা থাকে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৃতিত্ব পাওয়ার অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।’

About bdlawnews

Check Also

থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ইংরেজি বছরের শেষ রাত থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com