Home / Uncategorized / শিক্ষিত বেকারত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের উত্তরনের উপায়”

শিক্ষিত বেকারত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের উত্তরনের উপায়”

‌‌অন‌্যান‌্য  দেশের মত আমাদের দেশেও বেকার সমস্যা একটি ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই বেকার সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এদেশে নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ অনেক বেশি। সে কারণে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির সন্ধানে দ্রুত বেরিয়ে পড়তে হয়। চাহিদা অনুসারে কর্মক্ষেত্র কম হওয়ায় বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। বিশ্বে বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় ১২ তম স্থানে আমাদের দেশের নাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মমতাময়ী মা,তাঁর দেশ পরিচালনায় বিচক্ষনতায় দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ঘোষনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এদেশকে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জনগনের সর্বাত্মক সহযোগীতা কামনা করেছেন।

বর্তমানে দেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের বড় একটা অংশ দখল করে আছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। শিক্ষিত বেকারেরা সমাজে সবচেয়ে বেশি সামাজিক অবহেলিত। রাষ্ট্রের আইন ও শাসন ব্যবস্থাকে সুচারুভাবে পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগীতা করে বিজ্ঞ আইনজীবীরা। আর এই আইন পেশাকে আরো শক্তিশালী গ্রহণযোগ্য গড়ে তুলতে যেমন যোগ্য আইনজীবী দরকার তেমনি এ পেশাতে আসতে সঠিক নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপও দরকার।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০০০০(সত্তর হাজার) শিক্ষানবিশ আইনজীবী এ পেশায় আসার অপরক্ষায়। তার মধ্যে অতি সন্নিকটে দরজায় কড়া নাড়ছে ২০১৭ এবং ২০২০ সালের এম.সি.কিউ পাশ করা প্রায় ১২৫০০(বার হাজার পাঁচশত) শিক্ষানবিশ আইনজীবী। নিয়ম অাছে এম.সি.কিউ পরীক্ষার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে রিটেন পরীক্ষা গ্রহণ করা। কিন্তু দীর্ঘদিন পরীক্ষার জটিলতা এবং বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এম.সি. কিউ উত্তীর্ণ ২০১৭ এবং ২০২০ সালের শিক্ষানবিশদের গেজেটভুক্ত করে সনদের দাবীতে সারাদেশে একযোগে গত ৯জুনে প্রতিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

আকর্ষিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা মহামারীতে মানুষের কোন হাত থাকেনা এটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয়। তাই এমন আকর্ষিক মহামারীতে ভাল নেই দেশের প্রতিটি নাগরিক। ফলে এমন সমস্যা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতিটা শাখায় প্রনদনার ঘোষনা দিয়ে তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত বেকার অকার্যকর রেখে দেশের উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

অবহেলীত ভুক্তভোগী শিক্ষানবিশ আইনজীবীরাও চায় দেশের উন্নয়নে সচেতন নাগরিক হিসেবে কাজ করে দেশের উন্নয়নে অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে। শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা চায় তাঁদের ন্যায্য দাবী আদায় করতে।

আর এ ন্যায্য দাবী যে কতটা যৌক্তিক ও আইনসম্মত সে সম্পর্কে আইনী ব্যাখ্যার পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির শিক্ষানবিশ আইনজীবী জনাব আইনুল ইসলাম বিশাল। ব্যাখ্যাটা নিম্নরুপঃ-
“বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ‘ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972″ এর Article 40(1) এবং 40(2)(m) অনুযায়ী গেজেট বা প্রজ্ঞাপন দ্বারা ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি উর্ত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করতে পারেন।

এই বিষয়ে ” The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 ” এর Article (40)(1) এ বলা হয়েছে ” The Bar Council may, with the prior approval of the Government by notification in the official Gazette, make rules to carry out the purposes of this order, ” অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৪০(১) অনুযায়ী বার কাউন্সিল গেজেটের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

কয়টি বিষয়ের উপরে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে তার তালিকা দেওয়া হয়েছে ঠিক এর পরের অনুচ্ছেদ ৪০(২) এ, এই তালিকার Article 40(2)(m) বলা হয়েছে ” the examination to pass for admission as an advocate. ” এডভোকেট হিসাবে এনরোলমেন্টের জন্য যে পরীক্ষায় পাশ করতে হবে সেই বিষয়ে বার কাউন্সিল গেজেটের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। অর্থাৎ বার কাউন্সিল যদি ইচ্ছে করে সেক্ষেত্রে ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের গেজেটের মাধ্যমে সনদ প্রদান করতে পারেন”।

উল্লেখিত আইনী ব্যাখ্যার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত বেকার কার্যক্ষম করতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে যাঁরা ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়েছে তাঁদের রিটেন ও ভাইভা মার্জনা করে গেজেটের মাধ্যমে তালিকাভূক্ত করে এদেশের উন্নয়নের অংশিদারিত্বের অবদান রাখতে সম্মানিত বার কাউন্সিলের নীতি-নির্ধারক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদার্ত আহব্বান শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের।

লেখকঃ- মিতা খাতুন,

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, 

জেলা আইনজীবী সমিতি, খুলনা।

About bdlawnews

Check Also

করোনায় রিকশা ভাড়া নেই, তাই ছিনতাইয়ে সোহেল

তিন-চার বছর আগে শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় এসে রিকশা চালাতে শুরু করেন সোহেল। থাকতেন রিকশার গ্যারেজে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com