সদ্য সংবাদ
Home / Uncategorized / পুরুষ নির্যাতন দমন আইন পাশ হওয়াটা এখন সময়ের দাবী।

পুরুষ নির্যাতন দমন আইন পাশ হওয়াটা এখন সময়ের দাবী।

পারস্পারিক সমোঝোতা এবং পরমতসহিষ্ণুতা একই বৃন্তে অবস্হানের মাধ্যমেই একটি পরিবার আদর্শ পরিবার হয়ে ওঠে। এমন পথ চলায় কোন পরিবার যদি কোন কারনে ধীরে ধীরে নারী ক্ষমতায়নের কারনে নারী শাসিত হয়ে যায়। সেই পরিবারে সংগত কারনে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হয়। একজন নারী কয়েকটি কারনে পরিবারের শাসন ভার নিজ কর্তৃত্বে গ্রহন করে থাকে। নারীদের শাসনভার গ্রহনের কিছু ব্যতিক্রম কারণ ও রয়েছে যেমন দু-চার টা বলে যাই-পুরুষের শারিরীক অক্ষমতা,শশুর বাড়ির কাঙ্খিত উপঢৌকন, শশুরের দয়ায় একটা জব ইত্যাতি ইত্যাদি। পুরুষরা হয়তবা নানা কারনে এমন অবাধ্যতা যেনেও নারীদের নীরবে প্রাধান্য দিয়ে যায়। পরিবারের প্রধান পুরুষের অযোগ্যতা অক্ষমতা সংগত কারনেই নারীকে পরিবারের ক্ষমতা এবং শাসনভার নিজের নিয়ন্ত্রনে নিতে বাধ্য করে। ইসলাম তথা বিভিন্ন ধর্মেই নারীদেরকে পুরুষের অধিনস্ত করা হয়েছে, কিন্তু নারীরা এসব নিয়মকে মা‌ন‌তে অপছন্দ ক‌রে । সব ধর্মেই ইজ্জ্বত আভ্রুকে ঢেকে চলার নির্দেশনা রয়েছে। নারীরা এখন শ্লোগান দেয়”থাকবো নাক বদ্ধ ঘরে দেখবো এবার জগৎটারে” আর এই জগৎতের জাগতিক আধুনিকায়ন এমন মর্ডানাইজ করে তুলেছে নারীদের তা বলা বাহুল্য। এর পুরো প্রভাব পরে নারী শাসিত পুরুষের উপর। ফলে নারীর এই কর্তৃত্ব এক সময় ধীরে ধীরে নারীকে অতি কর্তৃত্ববান করে তোলে । আর তখনি সেই নারী শাসিত পরিবারে পুরুষরা অতিমাত্রায় নির্যাতিত হতে বাধ্য হয়। সেক্ষেত্রে পুরুষ বেচারাকে সবার অলক্ষে নিরবে হা হুতাস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। নারী শাসিত পরিবারে নারীর উপর কর্তৃত্ব বর্তানোর পিছনে পুরুষের অজ্ঞতা, অযোগ্যতা এবং নারীর প্রতি অতি আবেগী মনভাব প্রদর্শনী মুলতঃ কারন। তাই নারী শাসিত পরিবারে পুরুষ নির্যাতনের প্রেক্ষাপট পুরুষ কর্তৃক রচিত হয়ে থাকে। এমন কারনে নারীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় না করিয়ে নিজের আত্ম উপলব্দিতে বুদ্ধিদিপ্ত সমোঝতাই পারে পরিবারের সুখ ও শান্তি চলমান রাখতে। পুরুষ চাইলেই তা পারে। রইল নিরবে অশ্রু বিসর্জন তা তার হয়তবা অক্ষমতার কর্ম ফল।

পরিতাপের বিষয় হল দেশে নারী নির্যাতনের আইন থাকলেও পুরুষ নির্যাতন আইন এখনও হয়নি। দেশের কর্তারা হয়তবা এমন আইনের প্রয়োজন মনে করছে না। সমাজে আগের মত নারী নির্যাতন হয় না ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। নারীদের সমান অধিকার হল একটি সাংবিধানিক অধিকার।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার অংশের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ,ঢাকা,৪ঠা শ্রাবণ,১৪১০/১ঌশে জুলাই,২০০৩ ইং সালে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ (সংশোধিত)” পাশ হয়।

সমাজে যে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে না তা বলা যাবে না। নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষরাও নির্যাতিত হচ্ছে। আইন করে যেমন নারী নির্যাতন দমন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে তেমনি আইন করে পুরুষ নির্যাতন দমন করা হোক। এটা এখন পুরুষদের সময়ের দাবী।

দেশের প্রচলিত আইন ”নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ (সংশোধিত)”এবং সংবিধানের সাংবিধানিক এমন সমান অধিকার বলে অনেক নারীরাই এ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘরে পুরুষ কর্তা বা স্বামীর উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। কথায় কথায় নারী নির্যাতন মামলার হুমকিও দেয়। তাছাড়া
সমান অধিকারের সাংবিধানিক শক্তিতে তাঁরা বলীয়ান হয়ে গৃহপালিত পুরুষটারে করে ফেলে প্রজা। আর এ নির্যাতন বাইরে কোন দিন প্রকাশ পায় না। কারণ নারীরা তো জোড় গলায় চিৎকার করে কাঁদতে জানে কিন্তু পুরুষরা কোন দিনই উচ্চস্বরে কাঁদতে পারে না। ফলে নীরবে সহ্য করতে হয় পুরুষদের এ কষ্ট। বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতিও একটা অনুষ্ঠানে বলেছিল সমাজে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও নির্যাতিত হচ্ছে। তিঁনিও চায় এ সমাজে নারী নির্যাতন আইনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতন আইন পাশ হোক।
এমন অনেকে নারী শাসিত সংসারের নামে কর্তা হওয়ার পরও পুরুষরা যেন নারীদের অধিনস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই দাবী নারী নির্যাতন দমন আইনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতন দমন আইন সংসদে পাশ হোক। এটা এখন সকল পুরুষদের সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

লেখকঃ- মিতা খাতুন,শিক্ষানবিশ আইনজীবী,জেলা আইনজীবী সমিতি, খুলনা।

(সম্পূর্ন লেখ‌কের মতামত)

About bdlawnews

Check Also

৪৩ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৫ অক্টোবর

৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১৫ অক্টোবর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি। এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com