সদ্য সংবাদ
Home / Uncategorized / বগুড়ায় যুবলীগ নেতাকে খুনের পর রক্তমাখা জামা পরেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তারা

বগুড়ায় যুবলীগ নেতাকে খুনের পর রক্তমাখা জামা পরেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তারা

বগুড়ার আলোচিত তালেব হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। খুনের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে পুলিশ শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে। তারা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, খুনের সময় খুনিদের জামা কাপড়ে রক্ত লেগে যায়। ওই রক্তমাখা জামা কাপড় না পাল্টিয়েই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তারা। পরে বগুড়া শহরতলীর বারপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- শহরের আকাশতারা মধ্য পাড়ার আফসার প্রামানিকের  ছেলে চান মিয়া (২১) এবং একই এলাকার কাইউম প্রামানিকের ছেলে বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা (২২)। সামান্য মনোমালিন্য নিয়ে গত ১৪ জুন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে তালেবকে খুন করেন তারা।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটা চৌকস টিম শহরের বারপুর এলাকা থেকে রক্তমাখা পোশাক পরা অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করে। পুলিশ কর্মকর্তা তুহিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গত ১৪ জুন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সাবগ্রাম বাজার ইউনিট যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবকে(৩৫) শহরের আকাশতারা জুট মিলের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামি গ্রেফতারের নির্দেশনা দেন। ঘটনার পরদিন নিহত তালেবের স্ত্রী বাদি হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটা হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়।

ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা পুলিশকে জানায়- মামলার আসামিরা একসঙ্গে চলাফেরা করেন। তারা প্রায়সময় বার্মিজ চাকু বহন করেন। মামলার ১ নম্বর আসামি ফিরোজ ওরফে ফোকরার সঙ্গে খুন হওয়া তালেবের পূর্বে ভাল সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। চাঁন এবং বাপ্পার সঙ্গেও তালেবের সম্পর্ক ভাল ছিল না। তালেব বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে ডাকলেও তারা যেতেন না। ঘটনার দিন এই তিনজন ঘটনাস্থলের পাশে আইয়ুবের দোকানে পান খাচ্ছিল। এমন সময় তালেব একটা মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। মোটরসাইকেল থেকে নেমে তিনি চাঁনকে ডাক দিলে তিনজনই এগিয়ে যান। তালেব চাঁনকে জিজ্ঞেস করেন “কিরে, কথা শুনিস না কেন, বেশি সেয়ানা হয়ে গেছু? এমন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চাঁন চাকু বের করে তালেবের বুকে আঘাত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে তিনজনই তালেবকে এলোপাথারি ছুরি মারতে থাকেন। তালেব মাটিতে পড়ে যাবার পরেও তারা মারতে থাকেন। এ সময় ফিরোজের চাকুর আঘাতে তালেবের শ্বাসনালী প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তাদের নিজেদের এলোপাথারি কোপে চাঁনের ডান হাতের কনে আঙ্গুল এবং ফিরোজের ডান কনুই কেটে যায়। ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ফিরোজ ওরফে ফোকরাকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) সনাতন চর্কবর্তী বলেন, অপরাধ করে বগুড়া জেলা পুলিশের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে না। আগে হোক বা পরে ধরা পড়তেই হবে।

About bdlawnews

Check Also

বগুড়ায় তিন পৌরসভায় বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হলেন যারা

জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com