সদ্য সংবাদ
Home / Uncategorized / আজ বিশ্ব বাবা দিবসঃ সকল বাবাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা!

আজ বিশ্ব বাবা দিবসঃ সকল বাবাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা!

মিতা খাতুন,

খুলনা জেলা প্রতিবেদক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী,জেলা আইনজীবী সমিতি,খুলনা।

আজ সারা বিশ্বে যথাযথ বিনম্র শ্রদ্ধা,ভক্তি ও ভালবাসা এবং হারানো বাবাদের স্মৃতির প্রতি স্মরণ রেখে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। আর এ বাবা দিবসটি আমাদের দেশেও যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালন করা হয়। জুনের তৃতীয় রোববার হিসেবে এ বছর ২১ জুন বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হচ্ছে।

বাবা মানে জীবনের স্পন্দন । বাবা নিখাদ ভালবাসা ও নির্ভর আশ্রয়স্থল। সারাজীবন বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে ভরসার ঠিকানা। আবার বাবা শাশ্বত,বাবা চির আপন। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিয়তই ঘটে। ঘটা করে দিন ক্ষণ মেনে বাবার প্রকৃত দিবস পালন করাটা ক্যালেন্ডার মেইনটেন করা হয়। আসলে প্রকৃত বাবার প্রতি সন্তানদের ভালবাসা চিরন্তন। যাঁদের জীবনের শেষ ভরসার খুঁটি বাবা বেঁচে আছেন তাদের যেন হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দন ভরসার ঠিকানায় অবস্থানরত। আর যাঁদের বাবা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে তাঁদের যেন এক হতাসার গ্রাস নেমে এসেছে।

বাবার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য প্রতিটা ধর্ম গ্রন্থেই বলা আছে।

পবিত্র কুরআনুল কারিমের ১৫ জায়গায় বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার পালন কর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত কর না এবং বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন; তবে তাঁদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে বল শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন; আবার বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র জপে বাবাকে স্বর্গজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন। মন্ত্রটি হল- ‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’ এর অর্থ হচ্ছে- পিতা স্বর্গ, পিতাই ধর্ম, পিতাই পরম তপস্যা।
পিতাকে খুশি করলে সকল দেবতা খুশি হন।

বাবা দিবস সম্পর্কে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়- মা দিবস কয়েকশো বছর ধরে পালন করা হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাবা দিবসটি অনেক নতুন। দিবসটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয়েছে এবং এর শুরু নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প আছে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সম্ভবত গ্রহণযোগ্য গল্পটি হলো, ওয়াশিংটনের সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের একজন নারী এই দিন উদযাপন শুরু করেন। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা গেলে তার বাবা পরিবারটিকে বড় করে তোলেন।

১৯০৯ সালে সোনোরা গির্জার একটি বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন তার মনে হলো, বাবার জন্যেও এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মযাজক তার এই আইডিয়াটি গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিক ছিল না।

১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসাবে পালন করা হবে।

ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনে পরিণত করেন।

সর্বপরি বটবৃক্ষ ছায়ার মত আস্রয়স্থল বাবাকে আমরা শ্রদ্ধা,ভক্তি,সম্মান করবো। আর কোন বাবাকে যেন বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়।

About bdlawnews

Check Also

কুষ্টিয়ার এসপিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে হাইকোর্টে তলব

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com