সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / ই-জুডিশিয়ারি : বিচারব্যবস্থায় নতুন মাত্রা

ই-জুডিশিয়ারি : বিচারব্যবস্থায় নতুন মাত্রা

ভারতীয় উপমহাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। বিচারব্যবস্থা এই পরিক্রমায় রয়েছে হিন্দু, মুসলিম ও ব্রিটিশ শাসনামলের ধারাবাহিকতা। তবে শত শত বছর ধরে চলে আসা বর্তমান বিচারব্যবস্থা তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে প্রায় অচল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি, বিদ্যমান এনালগ ব্যবস্থা ন্যায়বিচারের পথে প্রধান অন্তরায়। ঝুলে আছে ৩৬ লাখ মামলা। অপচয় হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অর্থ। মামলার রায়-আদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পৌঁছাতে এক/দুই সপ্তাহ এবং এমনকি মাসও লেগে যায়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে হয় অপ্রত্যাশিত বিলম্ব।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিন বছর পর গুলশান ক্লাব মামলার রায় প্রকাশিত হয়, ১৬ মাস পর ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। আবার রেকর্ডরুমের এনালগ ব্যবস্থাপনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ৮ মে ২০১৮ সালে হাইকোর্টের নথি গায়েব নিয়ে দৈনিক প্রথম আলোয় পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। নথি গায়েবের ফলে দুদক ৫ বছর আপিল দায়ের করতে পারেনি।

অধিকন্তু, আদালতে দুরবর্তী সাক্ষী/ আসামি/ অন্যান্য পক্ষের শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। ফলে ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থীদের মামলার চূড়ান্ত ফলাফল/ডিক্রি পেতে অপেক্ষা করতে হয় যুগের পর যুগ। স্কলাস্টিকা ছাত্রী শাজনিন হত্যার বিচার শেষ হতে সময় লেগেছে ১৮ বছর; চাপা হত্যার চুড়ান্ত ফলাফল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৬ বছর। এই দীর্ঘসূত্রতা থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার।

বিদ্যমান বিচারিকব্যবস্থার সকল যোগাযোগ, ফাইলিং, সাক্ষ্য-প্রমাণ রেকর্ডিং ও সংরক্ষণ, মামলার নথি সংরক্ষণ, আদেশ-রায় প্রেরণ ও প্রদর্শন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। ক্ষেত্র বিশেষে পক্ষদ্বয় অডিও-ভিডিও-এর মাধ্যমে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। মামলার নথি, আদেশ, রায়সহ অনান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থায় ই-জুডিশিয়ারি চালু হয়েছে। অস্ট্রিয়ায় ১৯৯৯ সাল থেকে ই-কোর্ট ব্যবস্থা সুচারুভাবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে ২০০১ সাল থেকে মামলার নথি, আদেশ, রায় অনলাইনে পাওয়া যায়। মামলার যুক্তিতর্কের অডিও ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারব্যবস্থায় ই-কোর্ট ব্যবস্থাপনা রয়েছে। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে থাকাকালীন কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার দায়ে পুলিশ অফিসার লি-এর বিচার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছিল। বিচারিক আদালতে অডিও-ভিডিও রেকর্ড, সাক্ষীর জেরা-জবানবন্দি সংরক্ষণে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া আমাকে মোহিত করেছে।

মালয়েশিয়ায় ২০০৮ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কুয়ালালামপুরে দুটি হাইকোর্টে ই-কোর্ট ব্যবস্থা চালু হয়। ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে পুরো মালেশিয়ায় ই-কোর্ট ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৪ জুন তারিখ থেকে ফিলিপাইনের বিচারিক আদালতে ই-কোর্ট চালু রয়েছে। ২০১৭ সালের ৪ মে থাইল্যান্ডে ই-জুডিশিয়ারি চালু হয়। থাইল্যান্ডে ই-ফাইলিং, ই-সার্ভিসের পাশাপাশি ই-পেমেন্ট ব্যবস্থাও চালু করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০০৫ সাল থেকে ই-জুডিশিয়ারির কার্যক্রম চালু হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্রচলিত হার্ডকপি ফাইলিং–এর পাশাপাশি ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু আছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকা, সকল আদেশ-রায়, বিভিন্ন সার্কুলার, নির্দেশনা অনলাইন নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যায়। বিচারপতিদের পরিচয়, ১৯৯৭ সালে ১৭ মে সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে সম্পদের বিবরণ অনলাইনে প্রকাশিত হয়। নিম্ন আদালতে রয়েছে ই-কোর্ট ব্যবস্থাপনা। ই-ফাইলিং ও ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা কার্যকর আছে। দৈনন্দিন কার্যতালিকা, সকল আদেশ-রায়, বিভিন্ন সার্কুলার, নির্দেশনা অনলাইন নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যায়। বিচারকের ছুটির বিষয় ডিজিটাল মাধ্যমে জানা সম্ভব। ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট স্বপ্নিল ত্রিপটি বনাম সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়া, (২০১৮) ১০ এসসিসি ৬৩৯ মামলায় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের প্রসিডিং লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। কারণ, বিচার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

বর্তমান বাংলাদেশে বিচারিক ব্যবস্থায় কিছু কিছু কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে উচ্চ আদালতের উভয় বিভাগের মামলার তথ্যাদি, দৈনন্দিন কার্যতালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা সম্ভব। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে জামিন আদেশ যাচাই করা যায়। সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়, আদেশ প্রদর্শিত হয়। ২০১৫ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট অনলাইন বুলেটিন প্রকাশিত হয়। ২০১১ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার, আদেশ, নির্দেশনা অনলাইন নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যায়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়। জুডিশিয়াল পোর্টালে দেশের বিভিন্ন মহানগর এবং জেলায় আদালতসমূহে কর্মরত জুডিশিয়াল অফিসারদের তথ্য বিদ্যমান। মন্ত্রনালয়ের অনলাইন নোটিশ বোর্ডে উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ এবং নিম্ন আদালতে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ, বদলি, ছুটিসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ আদেশ অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন
সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপির অর্থায়নে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের পর উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। উচ্চ আদালতের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উক্ত প্রকল্পেরই অবদান। ২০১৫ সালে ১৮ জানুয়ারি তারিখে সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার উদ্বোধনী বক্তৃতায় বিচার বিভাগের জন্য ৫ দফা কর্মকৌশল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার অন্যতম। পরে তিনি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বারবার ই-জুডিশিয়ারির উপর গুরুত্বারোপ করেন। নিম্ন আদালতে সফরে যাওয়ার সময় তিনি ৫/৬টি কম্পিউটার সাথে করে নিয়ে যেতেন। সুপ্রিম কোর্ট বাজেট থেকে তা সরবরাহ করা হতো। ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিলেট ম্যাজিট্রেসিতে পাইলট ই-কোর্ট চালু করেন।

তারপর ২০১৮ সালে ২৬৯০ কোটির টাকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলো হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ইআরপি সফটওয়ার, ভিডিও কনফারেন্স সাক্ষ্য রেকর্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্য রেকর্ডিং, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন),আইন মন্ত্রাণালয়ের ডাটা সেন্টার, মন্ত্রাণালয়ের নেটওয়ার্ক সেন্টার, সুপ্রিম কোর্ট ডাটা সেন্টার, সুপ্রিম কোর্ট নেটওয়ার্ক সেন্টার, ১৪০০ ই-কোর্ট প্রতিষ্ঠা, ৬৩ জেলায় মাইক্রো ডাটা সেন্টার, মন্ত্রণালয়-সুপ্রিম কোর্ট আন্তঃযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, ২০০০ ট্যাব-লাপটপ প্রদান, কোর্টের সকল রেকর্ডরুম অটোমেশন, কেস রেকর্ডস ও রায় ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ, বায়োমেট্রিক অ্যটেন্ডেন্স, ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ১৭০ জন জনবল নিয়োগ। এই প্রকল্প গত মার্চে একনেকে অনুমোদন হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি করোনাভাইরাস
সংক্রমণের কারণে গত ২৯ মার্চ থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও সকল অধঃস্তন আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ৯ মে তারিখে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার অর্ডিন্যান্স জারি করেন। ওই অর্ডিন্যান্সের আলোকে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট উচ্চ আদালত এবং অধঃস্তন আদালতের জন্য পৃথক পৃথক প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করেন। প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুযায়ী অধঃস্তন আদালতকে শুধু জামিন শুনানির ক্ষমতা দেয়া হয়। গত ৩১ মে সুপ্রিম কোর্ট অধঃস্তন আদালতের জন্য আরেকটি নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনায় আগের প্র্যাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করে অধঃস্তন আদালতগুলোকে অতি জরুরি বিষয়ে শুনানির ক্ষমতা দেয়া হয়। এই পদক্ষেপকে দেশের ই-জুডিশিয়ারি স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাইফলক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

তবে ভার্চুয়াল কোর্ট বিদ্যমান আদালত ব্যবস্থার বিকল্প নয়। বিদ্যমান আদালত ব্যবস্থায় শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিচারকাজ পরিচালিত হয়। কিন্তু মহামারি বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভব হয় না। এই সময়ে বিচারকাজ সচল রাখার একটি পদ্ধতি ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা। এটি ই-জুডিশিয়ারির অন্যতম উপাদান। ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য ‘আমার আদালত’ ওয়েব পোর্টাল খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ই-ফাইলিং চালু হয়েছে।

ই-জুডিশিয়ারি
প্রায়োগিক সাফল্য নিশ্চিত করতে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বিদ্যমান হার্ডকপি ফাইলিং-এর পাশাপাশি ই-ফাইলিং চালু রাখা; অধঃস্তন আদালতের দৈনন্দিন মামলা তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা; অধঃস্তন আদালতের সকল আদেশ ও রায় অনলাইনে প্রকাশ করা; ডিজিটাল সাক্ষ্য রেকর্ডের ব্যবস্থা করা; ই-কোর্টের মাধ্যমে রেকর্ডকৃত ওরাল আর্গুমেন্ট অনলাইনে প্রকাশ করা; মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষ, সাক্ষী যাদের আদালতের সামনে উপস্থিত করা সময়সাপেক্ষ/ ব্যয়সাপেক্ষ- তাদের সাক্ষ্য বা বক্তব্য অডিও-ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; মামলার নথি ও গুরুত্বপূর্ণ আদেশ-রায়ের নকলের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা; কোর্ট ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফি অনলাইনে (ই-পেমেন্ট) সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা; বিদ্যমান কেস ট্রেকিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরী করা; সুপ্রিম কোর্টে পরিচালিত মামলার শুনানির লাইভ স্ট্রিমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; সুপ্রিম কোর্টের হার্ডকপি কজলিস্ট প্রিন্ট বন্ধ করা; ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রচলন, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, অনলাইন লাইব্রেরি, প্রশিক্ষণ, থানা-আদালত-কারাগারের মধ্যে ই-যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রচলন করা, অনলাইনে এফআইআর দায়েরের ব্যবস্থা, মেইনটেইন্যান্স ব্যবস্থা চালু, সকল আসামি/ দণ্ডিতের ডিজিটাল ডাটাবেজ সম্পন্ন করা, ডিজিটাল জমি ব্যবস্থাপনার সাথে আদালতের মধ্যে একটি আন্তঃযোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা, বিদ্যমান জুডিশিয়াল পোর্টালকে আপডেট করা ও মৌলিক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন।

করোনা মহামারির ব্যাপকতা ই-জুডিশিয়ারির প্রয়োজনীয়তা আরো একবার মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছে। প্রায় দেড় মাস রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ কাজ করতে পারেনি। ভার্চুয়াল কোর্ট এ স্থবিরতা দূর করেছে। ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম ২০ দিনে ৩০ হাজার বন্দী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের চলমান এ কার্যক্রম ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিচার প্রার্থীর পাশাপাশি বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবে; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে; দীর্ঘসূত্রতা লাঘব হবে; মামলা জট কমবে। সর্বোপরি বিচারব্যবস্থায় সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

লেখক : অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

About bdlawnews

Check Also

হাইকোর্টে মামলা পরিচালনায় মানতে হবে ৫ দফা নির্দেশনা

আগামী বুধবার থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে হাইকোর্টে বিচার কাজ শুরু হচ্ছে। এ কারণে মামলা ও আবেদন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com