Home / আইন আদালত / বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র

ভোজ্যতেল ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তরল কোকেন আনার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলীর মালিক নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে । সোমবার চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেয় র‌্যাব। এর আগে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল এই ঘটনায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটিতে আদালতে দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রেও এই ১০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবে কর্মরত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সূর্যমুখী তেলের আড়ালে কোকেন আমদানির ঘটনা শুরু থেকেই ‘অবগত’ ছিলেন নূর মোহাম্মদ। তার ‘জ্ঞাতসারে এবং সম্মতিতেই’ দেশে ও বিদেশে থাকা আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে তেলে মিশিয়ে কোকেন আমদানি করেছিল। গত বছরের ২৯ এপ্রিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটিতেও এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছিলো। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের ধারায় করা মামলায় সোমবার দেওয়া অভিযোগপত্রেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে ।

আসামিরা হলেন- খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সোহেল, মালিক নূর মোহাম্মদ, মোস্তফা কামাল, আইটি বিশেষজ্ঞ মো. মেহেদী আলম, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) একেএম আজাদ রহমান, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদের ভাই খান জাহান আলী লিমিটেডের পরিচালক মোস্তাক আহমদ খান, দুই যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া।

এই দুই মামলার আসামিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। তার ভাই মোস্তাক আহম্মদ শুরু থেকেই পলাতক। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফজলুর রহমান এবং বকুল মিয়াকেও পলাতক দেখানো হয়েছে। কারাগারে আছেন গোলাম মোস্তফা সোহেল এবং আতিকুর রহমান। বাকি চার আসামি জামিনে আছেন।

উল্লেখ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। বলিভিয়া থেকে মেসার্স খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলবাহী কনটেইনারটি জাহাজে তোলা হয় উরুগুয়ের মন্টেভিডিও বন্দর থেকে। সেখান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ওই বছরের ১২ মে পৌঁছায় চট্টগ্রাম বন্দরে।

পরে আদালতের নির্দেশে কনটেইনার খুলে ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকার বিসিএসআইআর এবং বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে তরলের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ১০৭টি ড্রামের মধ্যে দুটিতে ৩৭০ লিটার তরল কোকেনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। জব্দ করা ওই কোকেনের বাজার মূল্য প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছিলো র‌্যাব এর পক্ষ থেকে।

About bdlawnews

Check Also

সনদের দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অনশন অব্যাহত

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদের দাবিতে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছেন ২০১৭ ও ২০২০ সালের প্রিলিমিনারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com