Home / জাতীয় / কু‌মিল্লা জেলা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সন‌দের দা‌বি‌তে মানববন্ধন

কু‌মিল্লা জেলা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সন‌দের দা‌বি‌তে মানববন্ধন

কু‌মিল্লা প্রতিনিধি, ওমর ফারুকী তাপসঃ কুমিল্লা জেলা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে ৩০জুন সকালে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব বন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষানবীশ আইনজীবীরা বলেন করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে লিখিত পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চিত হওয়ায় ২০১৭ ও
২০২০ইং সালের উত্তীর্ণ সকল শিক্ষানবিশ আইনজীবিদের গেজেট প্রকাশ করে সনদ প্রদান হউক । ২০১৭ সালের মহামান্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুসারে প্রতিবছর পরীক্ষা শুরু করে একই বছরে ক্যালেন্ডার অনুসারে শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। ৩০জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কুমিল্লা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা জেলা শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উত্তম সাহা,জিল্লুর রহমান,মোঃ মহিউদ্দিন,মোঃ হানিফ মিয়া,মোঃ শরীফ হোসেন,
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারীতে মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য যখন ঘরে অবস্থান করছে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা আজ তারা রাস্তায় নেমেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ৬ মাস পর পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে তা আড়াই থেকে তিন বছরও লেগে যায়। আবার একবার পিলি এমসিকিউ পরীক্ষা শুরু করলে তা শেষ করতে দেড় বছর সময় লেগে যায়। বিনা বেতন ও সম্মানীভাতা বিহীন এই স্বাধীন পেশায় বছরের পর বছর সময় নষ্ট করে পর্যায়ক্রমে পিলি, লিখিত, ভাইবাসহ তিনটি পরীক্ষা নিচ্ছে তারা। পরীক্ষায় ১০ থেকে ১৫ পার্সেন্ট পাশের হার নিয়েও চরম হতাশা ও অসন্তুষ্ট রয়েছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা।
এই রকম অদ্ভুত, দীর্ঘসূত্রতার পদ্ধতির পরীক্ষা নেওয়া বিধান বিশ্বের আর কোথাও নজির নেই।
 
২০১৪ সালের শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৭ ইং সালে মহামান্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে প্রত্যেক বছর পরীক্ষা শুরু করে তা একই বছরের ভিতর শেষ করার নির্দেশ দেয়া থাকলেও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ওই রায়ের আদেশেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের-পর-বছর পরীক্ষা না নিয়ে তারা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে আজ দেশের শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
 
তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল সেক্টরের দিকে আপনি লক্ষ্য রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দয়া করে বার কাউন্সিলের দিকে আপনি একটু নজর দিন।
 
এই করোনা মহামারীর কারণে ১৭ ও ২০ সালে যারা পিলি (এমসিকিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরকে দ্রুত গেজেটের মাধ্যমে সনদের ব্যবস্থা এবং প্রতি বছর পরীক্ষা নিয়ে সকল শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সামাজিক ভাবে জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব অভিশাপ দূর করার দাবি তোলেন তারা।
 
মানব বন্ধনচলাকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহাবুবুর রহমান। এতে জেলার সকল শিক্ষানবিশ আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।

About bdlawnews

Check Also

নৌ দুর্ঘটনার বিচারে বিশেষ আদালত গঠন করা যেতে পারে: জিএম কাদের

নৌ দুর্ঘটনার বিচারে বিশেষ আদালত গঠন করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com