Home / আইন আদালত / শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতি মানবিক হন

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতি মানবিক হন

আজ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের যখন পড়ার টেবিলে থাকার কথা,আদালত প্রজ্ঞনে থাকার কথা

তখন আজ তারা এই করোনাকালে জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে ।

২০১৭ ও ২০২০ সালে এম সি কিউ (mcq) পরিক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১২,৫০০ ( বার হাজার পাঁচশত) শিক্ষানবিশ আইনজীবী আজ বারকাউন্সিলের পরীক্ষা না নেওয়ার চরম অনিহার স্বীকার হচ্ছে। এমনকি পরর্বতী পরিক্ষার জন্য প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ চাতক পাখির মত বারকাউন্সিলের দিকে চেয়ে আছে।

পরিস্থিতি এমন যে মানবিক কারনে আজ শিক্ষানবিশ আইনজীবীগন এম সি কিউ ( mcq) পরিক্ষা ( ২০১৭,২০২০) উত্তীর্ণদের গ্রেজেড করে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্তির দাবি তুলেছে। শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা তাদের দাবির স্বপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে, নানা কর্মসূচি পালন করে কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বার কাউন্সিল আইন মতাবেক প্রতি ছয় মাস পরপর পরিক্ষা নেওয়ার কথা।

এমনকি উচ্চ আদালত ২০১৭ সালের একটি মামলায় চূড়ান্ত রায়ে বারকাউন্সিলকে প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে আইনজীবী তাকিলাভুক্তি পরীক্ষা সমাপ্ত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

বার কাউন্সিল অর্ডারে ১০ নং অনুচ্ছেদে বারকাউন্সিল কমিটি যে সকল দায়িত্বের বিধান আছে তার মধ্যে আইনজীবী তালিকাভুক্ত পরীক্ষা সমাপ্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

আজ বারকাউন্সিল এতটাই উদাসীন যে, আইনজীবী তাকিলাভুক্তির একটি পরিক্ষা প্রস্তুতি নিতে প্রায় ২/৩ বছর সময় লেগে যাচ্ছে এবং পরিক্ষার তিনটি ধাপ(প্রিলি,রির্টান,ভাইভা) শেষ করতে তাদের প্রায় দুই বছরের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

বারকাউন্সিল বিধি মতাবেক সঠিক সময়ে পরীক্ষা না নেওয়ার দায়ভার কেন আজ ভুক্তভুগী শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা নিবে?

পৃথিবীর কোথাও এমনি কি আমাদের প্বার্শবতী দেশ ভারতে আইনজীবী তাকিলাভুক্তি হওয়ার পরীক্ষা সমাপ্ত করার এত দীর্ঘসময়ের নজির নেই।

বারকাউন্সিেলের আজ বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতি মানবিক হওয়ার সময় এসেছে, যেমন মানবিক হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ১৯৭২ সালে আইন বিষয়ে অধ্যায়ন না করেও তিনি মোক্তারদেরকে আইনজীবী হিসাবে উন্নীর্ত করেছিলেন।

বর্তমানে বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ এর ১৭(১) (ডি) অনুচ্ছেদ মতাবেক ২০১৭,২০২০ সালের এম সি কিউ (mcq) পরিক্ষায় পাশকৃত শিক্ষানবিশদের প্রতি মানবিক হয়ে ৪০(১), ৪০(২),(এম) বিধি মতাবেক ( যা বার কাউন্সিলের সংরক্ষিত ক্ষমতা বলে) গ্রেজেডের মাধ্যমে সনদ প্রদানের করতে আইনে কোন বাঁধা নিষেধ নেই।

যেহেতু একজন আইনজীবী সরকারি কোন বেতনভুক্ত কর্মচারী নয় সুতারাং তাদের আইনজীবী হিসাবে অন্তভুক্ত করলে তাদেরকে বেতন কাঠামো আওতায় আনতে হবে না।

আজ করোনার এই বৈশ্বিক মহামারীতে সারা বিশ্বে এমনকি আমাদের দেশেও মানবিক কারনে কত আইন না কত ভাবেই না শিথিল করা হচ্ছে।

বারকাউন্সিলের এই পরীক্ষা দীর্ঘ সময় জোটের কারনে অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবী আজ আইনি পেশা হতে ঝরে যাচ্ছে। প্রতি বছর নিয়মিত আইনজীবী অন্তভুক্তি পরিক্ষা পদ্ধতি সমাপ্ত হলে তিনটি ধাপ (প্রিলি, রিটার্ন, ভাইভা) পরিবর্তন বা শিথিলের দাবি আজ হয়ত শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা উপস্থাপন করতেন না।

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আধুনিক বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের কাজে লাগাতে হবে। একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরকে আইনের দিগন্ত প্রসারিত করার সুযোগ করে দিতে হবে।

এই মহামারী সময়ে বারকাউন্সিল ২০১৭,২০২০ সালের প্রলিমিনারী পরিক্ষায় পাশকৃত শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রতি সদয় মানবিক হবে, তাদের কল্যাণে যাথাযথ পদক্ষেপ নিবেন মর্মে শিক্ষানিবিশ আইনজীবীগন বারকাউস্নিলের নিকটে এই প্রত্যাশা করে।

এ, এম, তৌফিকুর রহমান

শিক্ষানবিশ আইনজীবী

বগুড়া জর্জ কোট, বগুড়া।

amtr0105@gmail.com

About bdlawnews

Check Also

সনদের দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অনশন অব্যাহত

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদের দাবিতে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছেন ২০১৭ ও ২০২০ সালের প্রিলিমিনারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com