সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / বগুড়ায় বালু ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে পুলিশ

বগুড়ায় বালু ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে পুলিশ

বগুড়ায় নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং জোর করে বাড়ির মালিককে নির্মাণসামগ্রী কেনায় বাধ্য করার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা।

এসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পুলিশের ‘অ্যাকশন’। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের নির্মাণ কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে সব ধরনের আইনি নিরাপত্তাজনিত সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশ সুপার। এই ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমুখী পুলিশিং-এর মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর পুলিশ।

জানা যায়, জোর করে বালু ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী এবং চাঁদাবাজের সঙ্গে জড়িত একশ জনের একটি তালিকা করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে প্রতিটি নির্মাণাধীন বাড়ি ও স্থাপনার সামনে সতর্ক বার্তামূলক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ৮০০টি নির্মাণাধীন স্থাপনার সামনে এই সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে পুলিশ।

বগুড়ায় বিভিন্ন নির্মাণ কাজে জোর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু নিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সুপার। পাশাপাশি প্রতিটি নির্মাণাধীন বাড়ি এবং স্থাপনার সামনে পুলিশের উদ্যোগে সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে।

সাইনবোর্ডে লেখা থাকছে ‘এই বাড়ির নির্মাণ কাজ বগুড়া জেলা পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে’। এতে করে দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলে আসা বালু নিতে বাধ্য করার ব্যবসার অবসান ঘটেছে। ফলে বগুড়াবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা যায়, গত এক যুগ ধরে বগুড়া শহর ছাড়াও জেলার সর্বত্র বাড়ি অথবা যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হলেই স্থানীয় কিছু বালু ব্যবসায়ী জোরপূর্বক সেখানে বালু সরবরাহ করে থাকে। বগুড়া শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় নির্মাণ কাজে কেউ তাদের পছন্দমত স্থান থেকে বালু কিনে নির্মাণ কাজ করতে পারেননি এতদিন। যারা এই বালু সরবরাহের কাজ করেন তাদের অধিকাংশই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। বালু সরবরাহ নিয়ে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত এক যুগে নিজেদের মধ্যে অসংখ্য খুনের ঘটনাও ঘটেছে।

সম্প্রতি গত এক মাসে বগুড়া শহরে প্রকাশ্যে চারটি খুনের ঘটনা ঘটে। যাদেরকে খুন করা হয় তারা প্রত্যেকেই যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী। নিহতরা এলাকায় বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই চারটি খুনের পর পুলিশ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুধিজন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বাড়ি নির্মাণকারীদের নির্ভয়ে পছন্দমত স্থান থেকে বালু কিনে কাজ চালানোর আহ্বান জানান।

পাশাপাশি জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিটি নির্মাণাধীন বাড়ি এবং স্থাপনার সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, ‘জোর করে বালু সরবরাহের ব্যবসা বন্ধ হলে অনেক অপরাধ কমে যাবে। এবার সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে ঝুলানো জেলা পুলিশের সাইনবোর্ড বালু সরবরাহকারীদের জন্য সতর্ক বার্তা।’

জেলার নির্মাণাধীন বাড়িগুলোতে গেলে দেখা মিলবে জেলা পুলিশের টানিয়ে দেওয়া সতর্ক বার্তামূলক ‘বিশেষ বিজ্ঞপ্তি’। তাতে বড় করে লেখা রয়েছে ‘এ বাড়ির নির্মাণ কাজ জেলা পুলিশ বগুড়া পর্যবেক্ষণ করছে।’ তার নিচেই লেখা ‘বাড়িওয়ালা নিজ পছন্দমত সুবিধাজনক জায়গা থেকে ইট, বালু, রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করবেন।

কেউ ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন প্রকার নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় ও বিক্রয়ের চেষ্টা করলে অথবা চাঁদা দাবি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোনো চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে নিম্নলিখিত নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’ সেখানে জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জের যোগাযোগের নম্বর সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) সোহেল রানা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ‘নানা উদ্ভাবনী উপায়ে মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। গণমুখী পুলিশিং~এর মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমরা’।

About bdlawnews

Check Also

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ‌ডিএম‌পির নির্দেশনা

 করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন করায় পরিবহন সঙ্কট দেখা দিতে পারে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com