সদ্য সংবাদ
Home / উচ্চ আদালত / হাইকোর্ট চত্ত্বরে সনদের দাবিতে অনশনে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে কয়েকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

হাইকোর্ট চত্ত্বরে সনদের দাবিতে অনশনে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে কয়েকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী।

মিতা খাতুন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের নিয়মিত পরীক্ষা না হওয়ার ফলে প্রিলিমিনারী পাশকৃতরা রিটেন,ভাইভা মওকুফ করে গেজেটের মাধ্যমে সনদের দাবীতে হাইকোর্ট চত্ত্বরে আমরণ অনশন কর্মসূচী চলছে।
আর এই অামরণ অনশন পালন করতে গিয়ে আজ ৮ জুলাই এই অনশনের দ্বিতীয় দিনে ৭জন শিক্ষানবিশ আইনজীবী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

জানা যায়,করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত ও ভাইভা মওকুফ করে আইনজীবী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশের দাবিতে হাইকোর্ট চত্ত্বরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। তাঁদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
গতকাল ৭ জুলাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে বার কাউন্সিলের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। তারপর একই দিন বিকাল থেকে হাইকোর্টে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করে তাঁরা। বর্তমানে ১২ হাজার ৮৪৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষায় আছেন। এছাড়াও ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরবর্তী এম,সি,কিউ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী সুমনা আক্তার লিলি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের ছাত্র ছিলেন, তিনি সারাজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। কিন্তু আজ আমরা জাতির পিতার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত, তিন বছর একটি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটি যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনি এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চিত সেহেতু ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের লিখিত ও ভাইভা মওকুফ করে গেজেট প্রকাশ করে ২০২০ সালেই সনদ প্রদান করা হোক। মুজিব শতবর্ষ থেকেই আপিল বিভাগের রায় কার্যকর করা হোক। জানা গেছে, দীর্ঘ পাঁচ বছরে একটি মাত্র এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয় খুলনার শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ রায়হান আলী জানান- অবহেলীত শিক্ষিত বেকার শিক্ষানবিশ আইনজীবী (প্রিলি পাশকৃত ২০১৭ও ২০২০) এদেশের উন্নয়নে অংশ নিতে চায়। এদেশ করোনার হাত থেকে কবে মুক্তি পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বার কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্যদের করোনা কালীন একটু মানবিক দৃষ্টি দিয়ে প্রিলি পাশকৃতদের রিটেন,ভাইভা মওকুফ করতঃ গেজেটের মাধ্যমে সনদ দেওয়ার জোড় দাবী জানাচ্ছি।

উপস্থিত শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, আমরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণ এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তীর্ণ হই। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর বার কাউন্সিল কর্তৃক এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কোনো পরীক্ষা হয়নি। তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমান করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারির কারণে লিখিত পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বিষয় মানবিকভাবে বিবেচনা করে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করে অথবা লিখিত ও ভাইভা উভয় পরীক্ষা মওকুফ করে ২০১৭ ও ২০২০ সালে এমসিকিউ উত্তীর্ণদের গেজেট প্রকাশ করে সনদের প্রদানের জন্য দাবি জানাচ্ছ।

উল্লেখ্য,এই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সারা দেশে গেজেটের মাধ্যমে সনদের দাবীতে একযোগে গত ৯জুনে দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ছিলেন। এছাড়া একই দাবীতে গত ৩০ জুন ঢাকা প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করেন ও সারাদেশে জেলা ভিত্তিক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছিলেন।

Bdlawnews24 pic

About bdlawnews

Check Also

ছাত্র-অবিভাবক মহাসমাবেশ জনসমু‌দ্রে প‌রিনত! শিক্ষানবীশ আইনজীবী‌দের!

ছাত্র-অবিভাবক মহাসমাবেশ জনসমু‌দ্রে প‌রিনত! শিক্ষানবীশ আইনজীবী‌দের! মিতা খাতুন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– প্রিলিমিনারী পাশকৃত (২০১৭ এবং ২০২০) সালের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com