Home / কোর্ট প্রাঙ্গণ / সন‌দের দা‌বি‌তে শিক্ষানবীশ আইনজীবী‌দের মহা সমা‌বেশ জনসমু‌দ্রে প‌রিনত!

সন‌দের দা‌বি‌তে শিক্ষানবীশ আইনজীবী‌দের মহা সমা‌বেশ জনসমু‌দ্রে প‌রিনত!

মিতা খাতুন,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রিলিমিনারী পাশকৃত (২০১৭ এবং ২০২০) সালের শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের তালিকাভূক্তির দাবীতে আজ ১৯ জুলাই মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে। মহাসমাবেশটি বেলা ২ টায় থেকে বার কাউন্সিলের সামনে চলছে। ইতিমধ্যে সমাবেশের জন্য করোনা ঝুকি, প্রচন্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাফনের কাপড় পড়েই যোগ দিয়েছে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৮১ টি বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত সমাবেশ স্থল। “আইনে কোন বাঁধা নাই গেজেট করে সনদ চাই”

জানা জায়,প্রিলিমিনারী পাশকৃত (২০১৭ ও ২০২০) সালের রিটেন,ভাইভা পরীক্ষা চলমান বৈশ্বিক মহামারীর কারনে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের ন্যায্য দাবী গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রধান সমন্বয়ক এ,কে মাহমুদ,সুমনা আক্তার লিলি ও আইনুল ইসলাম বিশাল গণের ডাকে আজ ১৯ জুলাই রবিবার বার কাউন্সিলের সামনে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সনদের দাবীতে মহাসমাবেশ।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রধান সমন্বয়ক এ,কে মাহমুদ বলেন, আমরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্ত করণ এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তীর্ণ হই। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর বার কাউন্সিল কর্তৃক এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কোনো পরীক্ষা হয়নি। তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে লিখিত পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বিষয় মানবিকভাবে বিবেচনা করে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করে অথবা লিখিত ও ভাইভা উভয় পরীক্ষা মওকুফ করে ২০১৭ ও ২০২০ সালে এমসিকিউ উত্তীর্ণদের গেজেট প্রকাশ করে সনদের প্রদানের জন্য দাবি জানাই।

ঢাকা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং আন্দোলনের সমন্বয়কদের অন্যতম সদস্য
আইনুল ইসলাম বিশাল বলেন, The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 40 (1) এবং 40 (2) (m) অনুযায়ী গেজেট বা প্রজ্ঞাপন দ্বারা ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি উর্ত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করতে কোনো বাধা নেই। উপরোক্ত দুইটি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি উর্ত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে পারেন।

আন্দোলনের সমন্বয়কদের অন্যতম সদস্য আরেক জন সুমনা আক্তার লিলি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের ছাত্র ছিলেন, তিনি সারাজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। কিন্তু আজ আমরা জাতির পিতার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত, তিন বছর একটি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি।

তিনি আরও বলেন, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটি যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনি এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লিখিত পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চিত সেহেতু ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের লিখিত ও ভাইভা মওকুফ করে গেজেট প্রকাশ করে ২০২০ সালেই সনদ প্রদান করা হোক। মুজিব শতবর্ষ থেকেই আপিল বিভাগের রায় কার্যকর করা হোক।

খুলনার শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ রায়হান আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে যেহেতু প্রিলিপাশকৃতদের রিটেন,ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না আর কবে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এটা কেউ জানে না। তাই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সম্মানিত বার কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাবো যেন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রিলি পাশকৃতদের গেজেটের মাধ্যমে সনদ দিয়ে শিক্ষিত বেকারদের স্বনির্ভর করে তোলে।

উল্লেখ্য,এই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সারা দেশে গেজেটের মাধ্যমে সনদের দাবীতে একযোগে গত ৯জুনে দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ছিলেন। এছাড়া একই দাবীতে গত ৩০ জুন ঢাকা প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করেন ও সারাদেশে জেলা ভিত্তিক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছিলেন।

About bdlawnews

Check Also

পুলিশ সদস্যদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করলেন আইজিপি

পুলিশ সদস্যদের সাথে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com