সদ্য সংবাদ
Home / কোর্ট প্রাঙ্গণ / শিক্ষানবীশ আইনজীবীরা যেন এক জীবন্ত লাশ!

শিক্ষানবীশ আইনজীবীরা যেন এক জীবন্ত লাশ!

মিতা খাতুন, শিক্ষানবিশ আইনজীবী, খুলনাঃ-

“জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর কখনও মিলেনা,কিছু কিছু ভুল থাকে যা শোধরানো যায়না,আর কিছু কিছু কষ্ট থাকে যা কাউকে বলা যায়না”- হুমায়ূন আহমেদ। কবির ভাষায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবন কাহিনী যেন মিলে গেছে। ছবিতে আমরা দেখছি কয়েকটা লাশ কাফনের কাপড়ে মোড়ানো। মনে হচ্ছে কোন বেওয়ারিশ লাশ রাস্তায় পড়ে আছে আর তার দাফন-কাফন সম্পন্ন করার জন্য লাশের পিছনে বসে টাকা কালেকশন করা হচ্ছে! এই একটা লাইন লিখতে অনেক কষ্ট পেলাম। বস্তুত এগুলো শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবন্ত লাশ। এরা আজ সমাজের কাছে,পরিবারের কাছে,দেশের কাছে সর্বপরি দেশের প্রতিটা বারের কাছে নাম পরিচয় বিহীন এক একটা জীবন্ত লাশ। জীবন চলার পথে যখন কেউ অনিয়মে আর ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে তখন এই অনিয়মের বেঁড়াজালকে ভেদ করে আসতে যত প্রকার বাঁধা বিপত্তি তা উপেক্ষা করেই আপন তুষ্টিতে বলিয়ান হতে চায়। ঠিক তেমনি শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কতটা বেকায়দায় পড়ে গেলে জীবনের ঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করে আজ রাজধানী ঢাকায় তাঁদের ন্যায্য অধিকার সনদের দাবীতে আমরণ অনশন করে?এটা আসলে অনেক বড় বেদনাদায়ক। আমরা তরুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু এদেশের লাখো মানুষের আত্মত্যাগ আর বলিষ্ঠ ইচ্ছাশক্তির প্রবল জাগরণ তো ইতিহাসে পেয়েছি। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছি।
সন্তানকে ভালবাসেনা এমন মা খুঁজে পাওয়া হয়তবা দূস্কর। একজন মা কখন তাঁর সন্তানকে ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে পাঠায় বলতে পারেন? যখন সেই মা-বাবার নিজের সকল চেষ্টা অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখতে ব্যার্থ হয়। তখনি বলে ‘যা বাবা তোকে আশির্বাদ করে দিচ্ছি তোর ন্যায্য দাবী আদায় করে বাড়িতে ফিরবি’। তখন সেই সন্তান পিতা-মাতার আশির্বাদ হৃদয়ে লালন করে মহান সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে নেমে যায় ন্যায্য দাবী আদায়ের মাঠে। তারই অংশ হিসেবে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা গত ৭ জুলাই ঢাকার বার কাউন্সিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে। একই দিন বিকেলে আমরণ অনশণ শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে। সুপ্রিম কোর্টে আমরণ অনশনের পর আবার বার কাউন্সিলের সামনে চলছে বর্তমান অনশন কর্মসুচী। ইতিমধ্যে ১৯ জুলাই দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৮১ টি বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা এ দাবী আদায়ের জন্য মহাসমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রধান কাজ হল আইনজীবী তালিকাভুক্ত করণ। The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর বিধান মতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বছরে দুইটি আইনজীবী তালিকাভূক্তির পরীক্ষা নিবে। এমনটা বিধান থাকলেও তা সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। ২০১৭ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারী ” বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি ” মামলার প্রদত্ত রায়ের নির্দেশনাতে আপিল বিভাগ বলেছিলো ” The Bar Council shall complete the enrollment process of the applicants to be enrolled as advocates in the district court each calendar year. ” কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা দেওয়ার তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দেশনাটি কার্যকর করা হয়নি। একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান জনগনের জীবন মান উন্নয়নে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করবে এবং সেই অনুযায়ী আমাদের বাঙ্গালী জাতীর পিতার উত্তরশুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ছোঁয়ায় ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে। সত্যি এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া। কিন্তু এমন প্রগতিশীল উন্নয়নে যদি কোন অনিয়ম কোন একটা অংশে বাঁধা সৃষ্টি করে সেটা সত্যি রাষ্ট্র তথা জনগনের জন্য পিড়াদায়ক। এমনি একটা জগা-খিচুড়ীর মধ্যে পড়ে গেছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবন। শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সঠিক সময় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে না পেরে হয়েছে দীর্ঘ জট। ফলে এক এক জনের জীবন থেকে ৩,৫,৭ কিংবা ১০ বছরও চলে যাচ্ছে লাইসেন্স পেতে। ফলে বর্তমান সৃষ্ট আন্দোলনের উদ্ভব হয়েছে। তাই শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অন্যান্য দাবীর মধ্যে অন্যতম দাবী হচ্ছে-আমরা যারা প্রিলিমিনারী পাশ করেছি( ২০১৭ ও ২০২০) সালের তাদের আপাতত করোনা পরিস্থির কারনে রিটেন,ভাইভা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর কবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কেউ জানেনা।
তাই প্রিলি পাশকৃত ২০১৭ এবং ২০২০ সালের শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের রিটেন,ভাইভা মওকুফ করতঃ গেজেটের মাধ্যমে সনদ দিয়ে আমাদের জীবন্ত লাশ থেকে পরিত্রান দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বার কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্যদের কড়জোড়ে অনুরোধ করছি।

About bdlawnews

Check Also

পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম ও মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

কুয়েতে গ্রেফতার সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও তার মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com