Home / অনিয়ম / বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে!

বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে!

লেখক ও প্রতিবেদকঃ- মিতা খাতুন,

শিক্ষানবিশ আইনজীবী, খুলনা।

“মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত। যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়ুগ কৃপাণ ভীম রণ, ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত”—- কাজী নজরুল ইসলাম। বিদ্রোহী কবির ভাষার মতোই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা তাঁদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে করছে বর্তমান অনশন । বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভূক্তিতে ব্যাপক পরীক্ষাজট আর দীর্ঘসূত্রিতার ফলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জীবনে নেমে এসেছে হতাশা। ফলে তারা সনাতন পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করে প্রিলিমিনারী পাশকৃতদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্তির দাবীতে করছে অনশন । ন্যায্য দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাসায় ফিরতে নারাজ।

বর্তমানে নানা জটিলতা আর অনিয়মে বছরের পর বছর শিক্ষানবিশই কাটাতে হচ্ছে আইনে এ্যাকাডেমিক সনদধারীদের। অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ৩/৫ এমনকি ১০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি,আইনী জটিলতা আর সঠিক সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার স্বদিচ্ছা না থাকার কারনে হতে পারছে না তালিকাভূক্ত আইনজীবী।

নিয়ম অনুসারে বছরে দুটো পরীক্ষা নেওয়ার কথা। এমনকি ২০১৭ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারী ” বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি ” মামলার প্রদত্ত রায়ের ১২ নম্বর নির্দেশনাতে আপিল বিভাগ বলেছিলো ” The Bar Council shall complete the enrollment process of the applicants to be enrolled as advocates in the district court each calendar year. ” কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা দেওয়ার প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নির্দেশনাটি কার্যকর করা হয়নি।

উপরন্তু ২১ শে জুলাই ২০১৭ এর পর ২ বছর ৭ মাস অতিবাহিত করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী আরেকটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতো দীর্ঘ সময় পরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা পারিবারিক,সামাজিক, আর্থিক চাপের মধ্যে আছে, তারসঙ্গে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দরূন প্রিলিমিনারী পাশকৃত (২০১৭ এবং ২০২০) লিখিত পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা হতাশায় ভুগছে।

ফলে বর্তমানে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের করোনাকালীন রিটেন,ভাইভা পরীক্ষা অনিশ্চিত হওয়ায় গেজেটভুক্ত করে সনদের দাবীতে সারাদেশে একযোগে গত ৯ জুনে দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ছিলেন। এছাড়া একই দাবীতে গত ৩০ জুন ঢাকা প্রেসক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করেন ও সারাদেশে জেলা ভিত্তিক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছিলেন। সর্বশেষ তারা গত ৭ জুলাই ঢাকার বার কাউন্সিলের সামনে অবস্থান কর্মসূচী শুরু করে। একই দিন বিকেলে আমরণ অনশণ শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে। সুপ্রিম কোর্টে আমরণ অনশনের পর আবার বার কাউন্সিলের সামনে চলছে বর্তমান অনশন কর্মসূচী।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দাবী- যেহেতু বর্তমান করোনা পরিস্থিতে ২০১৭ ও ২০২০ সালের এমসিকিউ উত্তীর্নদের রিটেন ভাইভা পরিক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটা কেউ জানে না। তাই প্রিলি পাশকৃত ২০১৭ এবং ২০২০ সালের শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের গেজেটের মাধ্যমে সনদ দেওয়া হোক।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের আরও দাবী- সার্কভূক্ত দেশগুলোতেও আমাদের দেশের মত তিন ধাপে আইনজীবী তালিকাভূক্তের পরীক্ষা নেই। ফলে আমাদের দেশে ও বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার হওয়া অতিব জরুরী। আইনজীবী তালিকা ভূক্তির পরীক্ষা সনাতন পদ্ধতি সংস্কার করে কি করে শর্টে অন্যান্য দেশের মত করে তালিকাভূক্ত করা যায় তা যেন দ্রুত নিরসন করবে বার কাউন্সিল।

About bdlawnews

Check Also

দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

শিক্ষক নিয়োগে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের …

One comment

  1. যিনি যে জেলার বাসিন্দা তিনি সে জেলা বারে প্র্যাকটিস করবেন। এতে শিক্ষানবিস আইনজীবিদের নিয়ে বার কাউন্সিলের অহেতুক ভয় কমে যাবে। সিনিয়রদের দ্বারা অবিলম্বে এই সিস্টেম চালু করে, শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com