সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যু

৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যু

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের একটি ভবনের ৯তলার বারান্দা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে’ সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক এমপি শহিদুল ইসলামের ছেলে ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের (৩৩) মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ১৬৩ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার দুপুরে টেলিফোনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে আমরা বাসায় গিয়ে নিহতের বাবা-স্ত্রীসহ স্বজনদের বক্তব্য শুনি। স্ত্রীর ভাষ্য– ব্যারিস্টার আসিফ নিয়মিত বিয়ার খেতেন। গত রাতে খেয়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। আসিফ রাতে বারান্দায়ই বসা ছিলেন। শেষ রাতে ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। ওসি বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

আসিফ সিরাজগঞ্জ কামারখন্দ বাগবাড়ী এলাকার অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে। শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬-৯০ মেয়াদে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি কামারখন্দ) আসনের এমপি ছিলেন। আসিফ ব্যারিস্টারি পাস করে সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস করছিলেন।

আসিফের শ্যালক সাইমন শাহিদ নিশাদ জানান, চার বছর আগে আসিফ তার বড় বোন সাবরিনা শাহিদ নিশিতাকে প্রেম করে বিয়ে করেন। আসিফের পরিবার এটি মেনে নেয়নি। এ জন্য আসিফ কাঁঠালবাগানে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। আসিফের পরিবার থাকত মিরপুরে।

নিশাদ আরও বলেন, আসিফ ও সাবরিনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝগড়া হতো। আসিফ মাদকাসক্ত ছিলেন। চার মাস উত্তরায় একটি রিহ্যাবেও ছিলেন তিনি।

নিশাদের ভাষ্য– গত রাতে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে আসিফ ৯ তলার বারান্দা থেকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন।

তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনলাইফ হাসপাতাল পরে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে ভোর সাড়ে ৫টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আসিফ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। মতিঝিলে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই ভোরে খবর দেয় আসিফের অবস্থা ভালো নয়, তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরে এখানে এসে আসিফকে মৃত দেখতে পাই। আমাদের সন্দেহ আসিফকে মেরে ফেলা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ জানার জন্য কলাবাগান থানা পুলিশ কাজ করছে।

About bdlawnews

Check Also

কক্সবাজারে পুলিশের ৩৪ পরিদর্শককে বদলি

সাবেক ওসি প্রদীপকাণ্ডের পর এবার কক্সবাজার জেলায় কর্মরত পুলিশের ৩৪ পরিদর্শককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com