সদ্য সংবাদ
Home / আইন আদালত / এটর্নী জেনা‌রে‌লের মৃত্যুতে বাংলা‌দেশ পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় স‌মি‌তির শোক বার্তা

এটর্নী জেনা‌রে‌লের মৃত্যুতে বাংলা‌দেশ পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় স‌মি‌তির শোক বার্তা

বাংলাদেশের বিজ্ঞ এটর্নী জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাচিত সম্পাদক ও সভাপতি, সিনিয়র এডভোকেট জনাব মাহবুবে আলম স্যার গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭-২৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন! তাঁর এ মৃত্যুতে দেশ এক অপূরনীয় সংকটের মাঝে পতিত হল, আমরা হারলাম প্রিয় অভিভাবককে! মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৭১ বৎসর ।

গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শরীরে জ্বর অনুভব করেন। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে করোনা টেস্ট করালে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঐদিনই তিনি সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। অবস্থার অবনতি হলে ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাতে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিউমোনিয়া, ব্রন্কিয়াল এ্যাজমা ও হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন।

ব্যক্তি জীবনেও তিনি ছিলেন একজন সফল মানুষ। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। পুত্র সুমন সাংবাদিকতা পেশা ও কন্যা শিশির কনা আইনপেশায় আছেন ।

তিনি ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মোছামন্দ্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হন এবং ১৯৮০ সালে আপীলেট ডিভিশনে আইনপেশা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত হন। ১৯৯৮ সালে আপীলেট ডিভিশনে সিনিয়র এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল এন্ড পার্লামেন্টারি ষ্ট্রাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারী বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৯৮ সাল থেকে ৪ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩ – ৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০০৪-২০০৭ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারী তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং সাথে সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তিনি ছিলেন একজন ভ্রমণ প্রিয় মানুষ। তিনি বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামসহ বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, কোরিয়া ও তানজানিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন।

তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য সংবিধানের ৫ম, ৭ম ও ১৩তম, ১৬ তম সংশোধনী মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লা, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মো. কামরুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী সহ অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপীলেট ডিভিশনে মামলা পরিচালনা করেছেন। হাইকোর্ট ডিভিশনে বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন এবং সফলতার সাথে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইনজীবী সমিতি র আহবায়ক মিয়া মোঃ কাওছার আলম (সমির) ও সদস্য সচিব মোঃ জিশান মাহমুদ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

About bdlawnews

Check Also

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com