Home / কোর্ট প্রাঙ্গণ / দালাল নির্মূল শুদ্ধি অভিযানের নামে শিক্ষানবিশদের হয়রানী করা হচ্ছে না তো!

দালাল নির্মূল শুদ্ধি অভিযানের নামে শিক্ষানবিশদের হয়রানী করা হচ্ছে না তো!

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক ঘোষিত নোটিশের মাধ্যমে দেশের সকল জেলা বারে চলছে টাউট,দালাল,তদবিরবাজ এবং আইনজীবী সহকারী/মহুরী নামধারী মামলা রিসিভকারী ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের বিভিন্ন কার্যক্রম।

জেলা বারগুলো এমন নির্দেশনা পেয়ে এমন কার্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় নানা মূখী পদক্ষেপ ও কৌশল অবলম্বন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করছে। কাজটি সত্যিই আইনঙ্গন তথা আইনজীবী সমাজে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। সর্বস্তরের সুশীল সমাজ সহ শিক্ষানবিশরাও এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। এমন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order,1972 এর ৪১ অনুচ্ছেদ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য ৬ মাসের কারাদন্ডের বিধান রহিয়াছে।

একদিনে কেউ বড় হয়নি। হাটি হাটি,পা পা করে মানুষ বড় হয়। কবির ভাষায় “হাটিতে শেখেনা কেহ,না খেয়ে আছাড়” আইনজীবী হতে হলে আগে একজন জেষ্ঠ আইনজীবীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ৬ মাস সফলভাবে শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হয় বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী। আর এই সময় অতিক্রান্তের পর পরেই বার কাউন্সিলের তিন ধাপের পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য করতে হয় রেজিষ্ট্রেশন। তারপর শুরু হওয়ার কথা পরীক্ষা যুদ্ধ। কিন্তু ওই ৬ মাস অতিক্রান্তের পর কত যে ছয় মাস কেটে যায় পায় না পরীক্ষার সিডিউল। ফলে অনিয়মিত পরীক্ষার কারনেই বেড়ে যাচ্ছে পরীক্ষার্থী/শিক্ষানবিশের সংখ্যা। শিক্ষার্থীরা ৬ মাস শিক্ষানবিশকাল অতিক্রান্ত করে পরীক্ষাও পায় না,যদি আদালতেও যাওয়ার অধিকারও হারায় কিংবা অন্য কোন পেশার সাথেও জড়িত হতে পারে না তবে এরা কি করবে? কোথায় যাবে? তাহলে নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে অসহ্য যন্ত্রনা দেয়া হচ্ছে না? কে দিবে এসব উত্তর।

এত অনিয়ম আর যন্ত্রনা সহ্যকারী আদালতপাড়ায় এক অবহেলীত আর মশকরার পাত্র হল এই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। লাল টাই দেখলেই যেন যতসামান্য পোক্ত টাইধারীদের গায়ে জ্বলে এক অজানা অাগুন! যেন চোখের সামনে অংশিদার! এমনটা কেন? আপনাদের কাছ থেকে তো শিক্ষানবিশরা শুধু কোর্ট প্রসেজিউর শিক্ষা নিবেনা,শিক্ষা নিবে সকল প্রকার নৈতিক কৌশল।

অথচ আজকের এই শিক্ষানবিশরা-ই তো আগামী দিনের বার কাউন্সিলের তালিকাভূক্ত আইনজীবী। শুধু তাই নয় আগামী দিনের খ্যাতনামা প্রসিদ্ধ আইনজীবীও বটে। এদের মধ্যেই আছে আগামীর সম্ভাবনাময় সমাজ তথা জাতীকে পরিচালিত করার মত মেধাবী। হতে পারে এদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ এম,পি মন্ত্রী বা মিনিস্টার। এরাই আগামীর জাতীর কর্ণধার। প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের খেতাব প্রাপ্ত এক নাগরিক।

এত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বার কাউন্সিলের দীর্ঘ্য সূত্রিতা আর অনিয়মের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে চরম বিপদে আইডেন্টিটি সংকটে ভুগছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা।

আইনে কারো ডিগ্রী থাকলে সরকারী-বেসরকারী, আধা সরকারী কিংবা স্বায়ত্তশাসীত প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল এ্যাডভাইজার হিসেবে আইনী পরামর্শ দিতে পারে। তবে আদালত পাড়ায় আইনী পরামর্শ কিংবা মামলা রিসিভ করতে পারবে না যদি কারো বার কাউন্সিলের আইন পেশার সনদ না থাকে।

ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে আদালতপাড়ায় টাউট,দালাল নির্মূলের নামে শিক্ষানবিশদের উপর চেপে দেয়া হচ্ছে নানান প্রকার বিধি নিষেধ। অনেক বারে এটাও শোনা যাচ্ছে শিক্ষানবিশদের আদালতে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। এমনকি তাদের আদালত চত্বরে ঘোরা-ফেরা,বিচরনেও অনিহা প্রকাশ করছেন অনেক বিজ্ঞ জন। এমনটা অভিযোগ শিক্ষানবিশদের।

যেহেতু বার কাউন্সিল নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সময়ে আইনজীবী তালিকাভূক্ত করতে পারছে না। তাই আদালত চত্বরে শিক্ষানবিশরা ৬ মাস অতিক্রান্ত হলে আর আসতে পারবে না এমন কোন আদেশ যদি কোন বার দিয়ে থাকেন তবে সেটা বার কাউন্সিলের নিয়মের সাথে সাংঘর্সিক না?

সর্বোপরি বলতে চাই শিক্ষানবিশরা আজকের বিজ্ঞ আইনজীবীদের সন্তান,ছোট ভাই-বোন। তাই শিক্ষানবিশদের সন্তানতুল্য মনোঃভাব দেখিয়ে ছোট খাটো ভুল ভ্রান্তি মার্জনা করে এই অবহেলিতদের উন্নয়নে সর্ব প্রকার সহযোগীতা একান্ত কাম্য।

লেখকঃ মিতা খাতুন,সাংবাদিক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী,খুলনা।

About bdlawnews

Check Also

শিক্ষানবিস আইনজীবীদের আর্তনাদ কি কেউ শুনতে পাচ্ছেন?

হাসান হামিদ শিক্ষানবিস মানে নবীন; আনাড়ি; নবব্রতী। আর আইনজীবী হলেন ‘আইন ব্যবসায়ী’; যিনি একজন এ্যাডভোকেট, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com