Home / আইন পড়াশুনা / সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বনাম পুলিশঃ

সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বনাম পুলিশঃ

সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বনাম পুলিশঃ
………………..এস, এম নাজির আহম্মেদ।

জমির মালিকানা, দখল, দখল পুনরুদ্ধার ইত্যাদি বিষয়ক দেওয়ানী মামলার দীর্ঘসূত্রীতা জনগণকে পুলিশের আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। ফলে সম্পত্তির বিরোধ সম্পর্কে নানাবিধ অভিযোগ প্রতিনিয়ত থানায় জমা পড়ে।

প্রেক্ষাপটঃ-০১
‘ক’ থানায় অভিযোগ করেন যে, ‘খ’ তার জমি জবর দখলের পায়তারায় লিপ্ত। যেকোন সময় তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমি থেকে বেদখল সহ শান্তিভঙ্গ করতে পারে।

এমন খবর প্রাপ্তির পর অফিসার ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি সাধারণ ডাইরীভুক্ত করে কার্যবিধি ১৪৯ অনুসারে ধর্তব্য অপরাধ নিবারণের উদ্দেশ্যে আইনে বর্ণিত সকল উপায় অবলম্বন করতে পারেন। যদি তাৎক্ষণিক অনধিকার প্রবেশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

যেক্ষেত্রে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা বিদ্যমান কিন্তু তাৎক্ষণিক অনধিকার প্রবেশের সম্ভাবনা নেই, তখন অফিসার ইনচার্জ বা তৎকর্তৃক নিয়োজিত অফিসার পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (পিআরবি) ২৫২ অনুসরণে জমির মালিক, দখলদার ও জমিতে স্বার্থ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে হুশিয়ার করে প্রত্যেকের নামে আলাদাভাবে বিপি ফরম ৩২ অনুসারে নোটিশ ইস্যু করবেন। দু‘কপি নোটিশের এক কপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করে অপর কপিতে প্রাপ্তি স্বীকার স্বাক্ষর বা টিপসহি এবং তারিখ সহ সাক্ষীদের নাম ঠিকানা লিখে রাখতে হবে। এরূপ নোটিশ জারীর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ পেনাল কোড ১৫৪ ধারার আওতায় এসে যাবেন এবং লঙ্ঘন করলে বিধি মোতাবেক লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করা যাবে।

একই সাথে অফিসার ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দরখাস্ত কারীকে বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। অর্থাৎ আবেদনকারী কৌশুলীর মাধ্যমে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কার্যবিধি ১৪৪/১৪৫ ধারায় প্রতিকার চাইতে পারেন।

যদি ইতোমধ্যে প্রকৃত দখলকার ব্যতীত অন্যকেউ বিরোধীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন বা অন্য কোন অপরাধ সংঘটন করেন তবে অভিযোগের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ ক্ষেত্রমতে পেনাল কোড ৪৪৭/৪৪৮ সহ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারামতে নিয়মিত মামলা রুজু করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

এতক্ষণ আইন ও বিধি সঙ্গত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এবার বাস্তবে কি ঘটে তা দেখা যাক। অতপর পাঠক আইনের সাথে বাস্তব চিত্র মিলিয়ে পার্থক্য বুঝতে সক্ষম হবেন।

উক্তরুপ অভিযোগ গৃহীত হবার পর বেশকিছু ক্ষেত্রে অফিসার ইনচার্জ সাহেবের পরামর্শক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পেনাল কোড ১৫৪ ধারা উল্লেখ করে মনগড়া একটি নোটিশ দরখাস্তকারী কর্তৃক মনোনীত বিরোধী পক্ষের প্রতি ইস্যু করেন। যা বিপি ফরম নং-৩২ অনুসারে করা হয় না। দুঃখের বিষয় হচ্ছে দীর্ঘ চাকুরী সম্পন্ন বেশকিছু অফিসার ঐ ফরমটি কখনো চোখে দেখেন নি। নব্যদের কথা বলাই বাহুল্য। যাহোক, অফিসার নিজে জমির এলাকায় যেয়ে অথবা কনষ্টেবল পাঠিয়ে নোটিশ জারী করেন। কখনো নোটিশেই লেখা থাকে জমির কাগজপত্র নিয়ে আগামী …….. তারিখে থানায় হাজির হবেন। একই নির্দেশ কখনো মুখে বলে আসেন। অতঃপর চলে অনাকাঙ্খিত দেন দরবার। থানায় উভয় পক্ষ নিয়ে অফিসার ইনচার্জ, কখনো এসআই বা কখনো এএসআই সাহেব শালিসে বসেন। ইতোমধ্যে যদি বিবাদী পক্ষের তদবীর আকার আকৃতিতে বড় হয়, তবে বাদীকে আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশের কিছু করার নেই তাও কিছুটা স্বীকার করা হয়। যদি বাদী বা দরখাস্তকারী পক্ষের তদবীর বড় হয়, তবে থানার গোলঘর বা অন্যকোথাও শালিসে বসেই বিবাদীকে ঐ জমিতে না যাওয়ার জন্য অফিসার “রায়” দিয়ে দেন। “রায়” অমান্য করলে সম্ভাব্য কি কি হতে পারে তার একটা প্রচ্ছন্ন হুমকীও দেয়া হয় বিবাদী পক্ষকে। এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সকল কর্মকান্ডই বে-আইনী ও এখতিয়ার বিহীন। পুলিশের এহেন বে-আইনী কর্মকে সুবিধাপ্রাপ্ত পক্ষ দারুন পছন্দ করেন। ফলে টিকে আছে এমন ব্যবস্থা। যেমন জনগণ, তেমন পুলিশ।

উক্তরূপ শালিস বসানোর ক্ষমতা অফিসার ইনচার্জ কোথায় পায় এমন প্রশ্ন কিছুদিন আগেও মহামান্য হাইকোর্ট উত্থাপন করেছেন। যা বিভিন্ন পত্রিকায়ও এসেছে। কিন্তু থামছেন না ক্ষমতাধর অতিলোভী অল্প কিছু পুলিশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে এমন একটি শালিস বা জমিজমা সংক্রান্তে পুলিশের রায়ের চিত্র ভিডিও আকারে প্রকাশ বা আদালতে উত্থাপিত হলে হয়তো প্রক্রিয়াটি কিছুদিনের জন্য থেমে যেতে পারে।

প্রেক্ষাপটঃ-০২
কখনো পুলিশের নিকট অভিযোগ করা হয় যে, ‘ক’ এর স্বত্বদখলীয় জমিতে ‘খ’ জোরপূর্বক ঘরবাড়ী বা দেয়াল নির্মাণ, পুকুর খনন, চাষাবাদ বা অন্যকোন কাজ করছেন বা গাছপালা কাটছেন। বাধা দিতে গেলে শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগটি পেনাল কোড ৪৪৭ সহ অন্যান্য ধারার অপরাধ। কিন্তু দরখাস্তকারী মামলা রুজু করতে চাচ্ছেন না। তিনি চাচ্ছেন যেন পুলিশ ‘খ’ এর কাজে বাধা প্রদান করেন। পুলিশও মামলা রুজু করছেন না। কারণ আমরা সকলে জেনে গেছি যে, এ জাতীয় ঘটনায় সম্ভবত জমিতে দরখাস্তকারীর কাগজী স্বত্ব থাকলেও প্রকৃত দখলকার নয়। বাস্তবেও কারো স্বত্ব এবং দখলীয় জমিতে অন্যের অনুপ্রবেশের ঘটনা খুবই কম। কিন্তু উক্তরূপ দরখাস্ত একেবারেই নিত্য নৈমিত্যিক । এক্ষেত্রে পুলশের দায়িত্ব বিবাদীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া। অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ প্রাপ্তির পর মামলা রুজু ব্যতীত কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার পুলিশের থাকে না। কিন্তু মামলা নেয়া হয় না, কেননা- সম্ভবত ডালমে কুছ কালা হ্যায়।

এক্ষেত্রে সাধারণত যা করা হয় তা হচ্ছে- দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দরখাস্তকারী থেকে কিছু খরচাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। যেয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি দেখেন যে, স্বত্বের বিরোধীতা বা বিতর্ক থাকলেও বিবাদী ঐ জমিতে প্রকৃত দখলকার এবং দখলকার ব্যক্তিই ঐ জমিতে ঘরবাড়ী বা দেয়াল নির্মাণ, পুকুর খনন, চাষাবাদ বা অন্যকোন কাজ করছেন বা গাছপালা কাটছেন। এক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে প্রকৃত দখলকারের দখলে হস্তক্ষেপ না করে দরখাস্তকারীকে আইনসম্মতভাবে উচ্ছেদের মামলা করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যকর করার পরামর্শ দেয়া।

বাস্তবে সাধারণত মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কি করে?

উক্তরূপ দরখাস্তকারীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ প্রকৃত দখলকারের কাজকর্মে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ দখলকারীকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেন। অতঃপর পুরানো অভ্যাসমত শালিস, রায়, হুমকী ইত্যাদি। যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ভয়ে বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলকারী থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট অফিসারকে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যেকোন উপায়ে ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে যান। অতপর অফিসার দরখাস্তকারীকে আবোল তাবোল কিছু ছবক সহ বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদায় দেন।

একেবারেই অল্প কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতাধর কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক বৈধ দখলকারকে বিভিন্ন মামলায় ঝুলিয়ে বাড়ীছাড়া করে অন্য পক্ষকে দখল পাইয়ে দেয়ার গল্পও শোনা যায়।

কার্যবিধি ১৪৫ ধারার ৬নং অনুচ্ছেদে আইনানুগভাবে উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত কোন জমিতে প্রকৃত দখলকার ব্যক্তির দখলে যেকোন ধরণের বিঘ্ন সৃষ্টি নিষিদ্ধ করার জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সুতরাং, পুলিশেরও দায়িত্ব যেন প্রকৃত দখলকার ব্যক্তির দখলে কেহ কোনরূপ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। বরং বিঘ্ন সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের সোচ্চার হওয়া সমীচীন।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, যিনি কোন জমিতে দখলকার আছেন, ঐ জমিতে তার স্বত্ব আছে কিনা এটা দেখার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব, এখতিয়ার বা ক্ষমতা পুলিশের নেই। আরো উল্লেখ্য যে, যদি কেউ নিজ থেকে স্বীকার করেন যে, যে জমিতে তিনি আছেন তাতে তিনি স্বত্ববান নন। তাহলেও পুলিশ দখলকারকেঃ
(১) জমি ছেড়ে দিতে বলতে পারেন না,
(২) জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন না
(৩) কেন এবং কিভাবে জমিতে দখলকার আছেন সে বিষয়ে কৈফিয়ত করতে, কারণ দর্শাতে বা গালমন্দ করতে পারেন না।
উপরন্তু এমন স্বত্বহীন ব্যক্তির দখলেও যেন কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

স্মরণ রাখা দরকার যে, আদালত থেকে উচ্ছেদ মামলার রায়ে কোন পক্ষকে উচ্ছেদের আদেশ হওয়ার পর নির্দিষ্ট কিছু বিধি বিধান পালন করেই তবে কাউকে দখল থেকে উচ্ছেদ করা যায়। পুলিশ শুধু আইনানুগ উচ্ছেদে সহায়তা করে মাত্র। কাউকে উচ্ছেদ করা মূলত পুলিশের দায়িত্ব না। আর স্বত্বের সিদ্ধান্ত একমাত্র দেওয়ানী আদালতই নিতে পারেন।

অতি উৎসাহী কোন পুলিশ সদস্য যদি কাউকে অন্যায়ভাবে বেদখল করতে কোন পক্ষাবলম্বন করেন, তবে তিনি অপরাধ করবেন এবং এজন্য অচিরেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

যখন কোন পুলিশ সদস্য মালিকানা সংক্রান্তে জমির দলিলাদি দেখার অজুহাতে জনগণকে হয়রাণী করেন। তখন জনগণ প্রশ্ন করতে পারেন- তিনি কি দলিলাদি দেখে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন, কে সত্ববান? অথবা দলিলাদী দেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারেন। পুলিশ এবং আইনজ্ঞ সকলেই জানেন পুলিশ জমির মালিকানা সাব্যস্ত করতে পারেন না। একজনের দখলীয় জমি কেড়ে নিয়ে অন্যকে দিতে পারেন না। তারপরও সমাজের অনেক বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ, আইনজ্ঞ জনতা চান যেন কাগজপত্র দেখা ইত্যাদি অজুহাতে পুলিশ প্রতিপক্ষকে হয়রাণী করেন এবং কোন না কোন সু-কৌশল বা অপকৌশলে দখলকারকে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। বাস্তবতা হচ্ছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে ব্যবহার করে অনেকে সুফল পেয়ে থাকেন। অপরদিকে দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রীতা জনগণকে অপথে সম্পত্তির দখল পেতে উৎসাহিত করে। এ সুযোগে কিছু দুষ্ট পুলিশ সদস্য বেআইনী কাজে জড়িত হয়ে পকেট ভারী করার চেষ্টা করে থাকেন। যেমন জনতা, তেমন পুলিশ।

প্রেক্ষাপট-০৩
জমিজমা সংক্রান্তে বাদীপক্ষ নির্বাহী আদালতে কার্যবিধি ১৪৪/১৪৫ ধারামতে আরজী পেশ করার পর বিজ্ঞ আদালত সাধারণত দু‘টি আদেশ প্রদান করেনঃ
(১) বিরোধীয় জমির প্রকৃত দখল সম্পর্কে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য এসি ল্যান্ড/ইউপি চেয়ারম্যান/থানার ওসি বা অন্য কাউকে নির্দেশ দেন।
(২) অফিসার ইনচার্জ বিরোধীয় জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখবেন মর্মে নির্দেশ দেন। কখনো স্থিতিবস্থা বজায় রাখা সহ আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বিজ্ঞ আদালত অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিসার ইনচার্জকে ১নং দায়িত্বটি প্রদান করতেন। ইদানিং অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্যদের দায়িত্ব দেন। কারণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুলিশের অনিয়ম দুর্ণীতির আশঙ্কায় জনগণ বা আদালত পুলিশের উপর নির্ভর করতে অনাগ্রহী।

২নং আদেশটি থানায় গৃহীত হবার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার (এসআই বা এএসআই) বাদী-বিবাদীর প্রতি কখনো শুধু বিবাদীর প্রতি মনগড়া একটি নোটিশ ইস্যু করেন। কখনো কখনো চলমান কোন কাজ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশের ভয়ে জনতা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। কখনো বড় রকমের তদবীর করে অফিসারের সম্মতি নিয়ে কাজ চালিয়ে যান। যার সবটাই বেআইনী।

স্থিতিবস্থা বা Status Cuo বজায় রাখার অর্থ হল, পক্ষগণ যে যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় থাকা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ যে আগে থেকেই দখলকার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি কাজ করতেই থাকবেন। তার কাজে কেহ বাধা না দেয় তা নিশ্চিত করাও স্থিতিবস্থা বজায় রাখার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু উল্টো পুলিশ দখলকারীর কাজে বাধা দেন। আবার বিবিধ প্রক্রিয়ায় শান্ত হয়ে পিছু হটেন। অথচ বিজ্ঞ আদালত কখনোই দখলকারীর কাজে বাধা দিতে আদেশ দেন না।

যেক্ষেত্রে বিরোধীয় জমির দখল সম্পর্কে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়, তখনকার দায়িত্ব ও কর্তব্য পিআরবি ২৮৭ (ঘ) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে। জমিটি কার প্রকৃত দখলে রয়েছে তা নির্ণয়ের জন্য তদন্তকারী অফিসার জমির পার্শ্ববর্তী জমি বা চাষাবাদযোগ্য জমির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। বিদ্যমান দখলের সাক্ষ্য বহনকারী কোন আল আছে কিনা তা নোট করবেন, বর্তমান দখল সম্পর্কিত কাগজপত্র ব্যতীত দলিল দস্তাবেজ দেখার প্রয়োজন নেই। দখল সম্পর্কিত কাগজ বলতে দখলীস্বত্ব দান সংক্রান্তে দায়রা আদালতের কোন নির্দেশ বা সাম্প্রতিক চালিত রেকর্ড পরীক্ষা করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, জমিজমা সংক্রান্তে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে যেকোন সময় পুলিশ অভিযোগ প্রাপ্তীর পর অনুরুপ অনুসন্ধান করে শান্তিভঙ্গের জন্য সম্ভাব্য দায়ী লোকদের বিরুদ্ধে কার্যবিধি ১০৭/১১৭ ধারায় বা ১৪৪/১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে নন এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করতে পারেন। যা নন জিআর মামলা নামে পরিচিত। এক্ষেত্রেও পিআরবি ২৮৭ বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয়।

জবরদখল ঠেকানোর বা অনধিকার প্রবেশ বা অন্যকোন ধর্তব্য অপরাধ ঠেকানোর ভিন্ন উপায় না থাকলে কার্যবিধি ১৫১ ধারা প্রয়োগে সম্ভাব্য শান্তিভঙ্গকারীকে গ্রেফতার করে উক্তরূপ কার্যবিধি ১০৭/১১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দেয়া যেতে পারে।

অল্প কিছু থানার অফিসার ইনচার্জ সাহেবের পছন্দের কতক এএসআই অনেকগুলি থানায় ভুমি বিরোধ সংক্রান্তে ঐসকল অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে বেশী জড়িত বলে শোনা যায়। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে থানা পুলিশের একাংশ অশান্তির নিয়ামক হিসেবে কাজ করেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশের যথাযথ ভুমিকা না নেয়ার কারণে বা কখনো পক্ষপাতমূলক আচরণে জমিজমার বিরোধ থেকে খুন জখমের মত একাধিক ফৌজদারী অপরাধের সৃষ্টি হয়ে থাকে। অথচ পুলিশী যথাযথ ভুমিকা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।

জমিজমা সংক্রান্তে উল্লিখিত সকল অনিয়ম, অনাচার, অবিচার, অত্যাচার, অন্যায় কর্মকান্ডের সাথে জনতার একাংশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুলিশের নিকট থেকে কাঙ্খিত ও সংযত আচরণ আশা পোষণকারী জনতাকেও সুশীল হতে হবে। জনতা নিজে সঠিক পথে চলার অনুশীলন করার পাশাপাশি পলিশকেও সঠিক পথে চলতে সহায়তা করতে পারেন। এদেশের পুলিশ এদেশের জনগণেরই সন্তান, ভাই এবং বন্ধু। দুর্ণীতি ও অন্যায় পথ থেকে আপনার সন্তান, বন্ধু, ভাইকে ফিরিয়ে রাখার মধ্যেই সকলের কল্যাণ কামনার প্রমাণ রয়েছে। দেশের লক্ষকোটি সাধারণ মানুষের প্রতি সদাচরণ প্রদর্শণ এবং ন্যয় বিচার পাইয়ে দিতে চেষ্টা করার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়। সমানুপাতে, সকল মানুষের। সর্বস্তরের সকল জনতার।

About bdlawnews

Check Also

সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বনাম পুলিশঃ ………………..এস, এম নাজির আহম্মেদ। জমির মালিকানা, দখল, দখল পুনরুদ্ধার ইত্যাদি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com