Home / আইন আদালত / গ্রেপ্তার এড়াতে ছদ্মবেশ ধরেন এসআই আকবর

গ্রেপ্তার এড়াতে ছদ্মবেশ ধরেন এসআই আকবর

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর জেলা পুলিশের কানাইঘাট থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জানা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে খাসিয়াদের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এসআই আকবর। কিন্তু ছদ্মবেশ ধারণ করেও গ্রেপ্তার এড়াতে পারেননি তিনি।

সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে হাত-পা বেঁধে পুলিশে দেয়। তবে পুলিশ বলছে ডোনা সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের ২৯ দিন পর গ্রেপ্তার হওয়া সিলেটের আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবরকে ধরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকার একটি জঙ্গলে স্থানীয় লোকজন সবুজ রঙের রশি দিয়ে আকবরের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে রেখেছেন। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায় ‘মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য নিরপরাধ একটা ছেলেকে মেরে ফেলেছে আকবর’। তখন আকবর বলেন ‘আমি মারিনি ভাই। আমি তারে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমি পালাব না। আল্লাহর দোহাই লাগে আমারে বাঁধিয়েন না’।

এর আগে সিলেট জেলা পুলিশর সহকারী মিডিয়া কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক সাইফুল আলম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসআই আকবরকে সিলেটে আনা হচ্ছে। বিকেল ৫টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১১ অক্টোবর ভোর রাতে রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

রায়হান ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হলেও নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ ছিল পুলিশ ধরে নিয়ে ফাঁড়িতে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত দল ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর সত্যতা পেয়ে জড়িত থাকায় ইনচার্জ আকবরসহ চার পুলিশকে বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।

বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বন্দরবাজার ফাঁড়ির কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন। ঘটনার পর অন্য ছয়জন পুলিশ হেফাজতে থাকলেও আকবর পলাতক ছিলেন।

About bdlawnews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com