Home / Uncategorized / ইয়াবা আসা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়াবা আসা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন: পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এসে আমার দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই ইয়াবা আসা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

সেই সথে তিনি মাদকপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থেকে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টায় বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন দপ্তরের প্রশিক্ষণ মাঠে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন: মাদকপাচার রোধে আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর থেকে কঠোরতম হচ্ছে। এ জন্য যত ধরণের প্রচেষ্টা তা অব্যাহত রয়েছে। যেন মাদকের ভয়ংকর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

‘আমরা অবশ্যই সাকসেসফুল হব, আমরা অবশ্যই সফল হব। কয়েক বছর আগেও আপনারা দেখেছেন, ধুমপান নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। বলেছিলাম, ধুমপান বিষপান; মাদক তার চেয়েও ভয়ংকর। আমাদের এই যুদ্ধে অবশ্যই জয়ী হতে হবে এবং জয়ী হবো ইনশাল্লাহ’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় মাদকপাচার রোধে সীমান্ত বাহিনী বিজিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নর জবাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরও কঠোর নিরাপত্তার লক্ষ্যে কক্সবাজার সফর করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে একটি নতুন থানা উদ্বোধন করা হয়েছে।

এছাড়াও কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে নতুন থানার উদ্বোধনের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন: দেশের মানুষের নিরাপত্তার বিধান করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিজিবি জানিয়েছে: এবার কক্সবাজারে দেশের সবচেয়ে বড় মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এক সাথে এত বৃহৎ পরিসরে দেশের কোথাও এত বিপুল পরিমানের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়নি। এতে ধ্বংস করা এসব মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে গত ৩ বছরে বিজিবির বিভিন্ন সময়ের অভিযানে জব্দ করা মালিকবিহীন ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৫ টি ইয়াবা, ৫ হাজার ৭৯৯ বোতল মদ, ৩৩ হাজার ৫৫৫ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭৩৬ লিটার বাংলা চোলাই মদ, ১৫ কেজি ৭৩২ গ্রাম গাঁজা, ১৮ হাজার ৭৫০ পাতা সিডিল ট্যাবলেট ও ৫ হাজার পাতা জোলিয়াম ট্যাবলেট।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন ব্যাটালিয়ানের বিভিন্ন চেকপোস্টের কার্যক্রমের উপর ডেমো ও রিজিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজেদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে পৌঁছায়। এরপর বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে নতুন স্থাপিত ‘ঈদগাঁও থানা’ উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পর বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদগাঁও থানা উদ্বোধন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে পুলিশ মহাপরিদর্শক ডক্টর বেনজীর আহমেদ, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম বিএ অনার্স এম এ, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক, মহিলা সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান পিপিএম,কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ডক্টর মামুনুর রশিদ,কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

About bdlawnews

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com