সদ্য সংবাদ
Home / আইন পড়াশুনা / আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মাঝে দেশের প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাই সফলতার স্বাক্ষর রাখবে

আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মাঝে দেশের প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাই সফলতার স্বাক্ষর রাখবে

আমার ধারণা ভুল না হলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মাঝে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাই সফলতার স্বাক্ষর রাখবে। এর অনেকগুলো কারণ আছে এবং অনেকগুলো কারণ ‘বানাতেও’ হবে। এই লেখাটা আসলে পাবলিক-প্রাইভেট দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কোনো প্রয়াস নয়, বরং এটাই বলতে চাওয়া যে দেশের প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ দারুণভাবে তাদের কারিকুলাম এবং শিক্ষকবৃন্দ ঢেলে সাজাচ্ছে। আমি প্রথম সারি না বলে নামগুলো বলেই ফেলিঃ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাব, আইইউবি এবং কিছু ক্ষেত্রে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে বড় সুবিধা হলো তাদের সেশনজট নেই। এটা যে কী পরিমাণ আশীর্বাদ তা সেশনজটে পড়া একজন পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলেই বুঝবেন। এই করোনাকালেও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দারুণভাবে সময়গুলোকে কাজে লাগিয়েছে।

আরেকটি ব্যাপার হলো অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি। ছাত্ররাজনীতির মতো সুন্দর ব্যাপার খুব কমই আছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা শ্রেফ ধ্বংস করা হচ্ছে অসুস্থ এবং স্বার্থপর রাজনীতি দ্বারা। অন্যদিকে প্রাইভেটে এরকম কিছু নেই।

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষক যেখানে দলীয়করণে, নিজেদের মাঝে দ্বন্দ্বে লিপ্ত সেখানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়োগ দিচ্ছে দারুণসব একাডেমিক এক্সিলেন্সওয়ালা শিক্ষক। ব্র্যাকের বর্তমান ভিসির একাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল দেখলেই বিষয়টা আরও ভালোভাবে বুঝা যাবে, ওনার দুইটা পিএইচডিসহ হার্ভার্ড, ইউসি বার্ক্লে ও এমআইটির ডিগ্রি আছে! ব্র্যাকের বেশিরভাগ ফ্যাকাল্টির একাডেমিক এচিভমেন্ট রীতিমতো ঈর্ষণীয়। একই কথা এনএসইউ, ইস্টওয়েস্টসহ বাকি উপরোক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়েও। এবং আরও সুন্দর ব্যাপার হচ্ছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ফ্যাকাল্টি বয়সে তরুণ। এরা শিক্ষার্থীদের মনে আলোড়ন তুলতে পারে নিদারুণভাবে।

অন্যদিকে বেশিরভাগ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন প্রশ্নবিদ্ধ ঠিক তেমনই গোলমেলে তাদের শিক্ষকবৃন্দ। নিঃসন্দেহে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অসাধারণ তবে কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে তারা সেই জ্ঞানকে শাণ না দিয়ে অন্য অনেক কিছুতে ব্যস্ত। জ্ঞান চর্চা না করলে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। পাবলিকের শিক্ষকদের এই বোঝা পাবলিকের শিক্ষার্থীরাও নিচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে মূলত শিক্ষার্থীরা।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু একটা দিকেই পাবলিকের চাইতে পিছিয়ে আর সেটা হলো তাদের মনের ভেতরে বদ্ধমূল ধারণা তারা “প্রাইভেটের শিক্ষার্থী”। এই ধারণা থেকে যদি তারা হুট করে একসাথে সবাই একদিন বের হয়ে যেতে পারে তাহলে তাদের মতো ‘Unstoppable’ আর কেউ হতে পারবেনা। নিঃসন্দেহে তারা অর্থ-বিত্তের দিক দিয়ে পাবলিকের একজন শিক্ষার্থীর চাইতে একটু হলেও এগিয়ে। আর এই প্রিভিলেজ কে তারা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে শিখছে না। যখন শিখে যাবে তখন দারুণ কিছু হবে।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরেকটা বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবেঃ দেশ নিয়ে চিন্তা করা, দেশের সেক্টরগুলোতে নিজেকে নিয়োজিত করা। বিদেশে যাবে, ডিগ্রি নিবে, সেইসাথে তারা যদি দেশেও ফিরে আসে তাহলে তারাই এগিয়ে থাকবে।

আমাদের পাবলিকের শিক্ষার্থীদের একটা প্রাতিষ্ঠানিক দম্ভ আছে এবং এটাই আমাদের কাল হয়ে দাঁড়াবে। আমি পাবলিকের শিক্ষার্থী ছিলাম, পড়িয়েছি পাবলিক ও প্রাইভেট দুটোতেই। তাই হলফ করে বলতে পারি প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা অনেকাংশেই কুইক-রেন্সপন্সিভ এবং কমিউনিকেশনে স্মার্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদ, আইবিএ এবং আরও কিছু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব নির্দিষ্ট কিছু অনুষদ বাদ দিলে প্রথম সারির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা অনেক অনেক এগিয়ে।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ তারা যেনো দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের কল্যাণ নিয়ে ভাবে এবং নিজেকে যেনো কখনো কোনো অংশেই কম না ভাবে।

– আরাফাত মোহাম্মাদ নোমান
এসিস্ট্যান্ট কমিশনার & এক্সিকিউটিভ মেজিস্ট্রেট

About admin

Check Also

বার কাউন্সিলের সকল কার্যক্রম অনলাইনে, টেলিটকের সা‌থে চুক্তি

বার কাউন্সিলের সকল কার্যক্রম এখন থেকে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে সে জন‌্য  টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com