Home / আইন পড়াশুনা / করোনাকালীন সময়ে বেশিরভাগ আইনজীবীদের বাস্তবতা

করোনাকালীন সময়ে বেশিরভাগ আইনজীবীদের বাস্তবতা

জিশান মাহমুদঃ

কর্মজীবী ও পেশাজীবি সকল মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য নিজেকে ও নিজের পরিবারকে যে কোন পরিস্থিতিতে টিকিয়ে রাখা। করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও, পেশা হিসেবে আইনজীবীরা ক্ষতিগ্রস্থ বেশি।

সকল কর্মজীবী মানুষ যে যেখানে কর্মরত, সেখানে তার বেতন করোনা পরিস্থিতিতে কিছুটা কমানো হলেও বেতনাদি পেয়ে আসছেন (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া চাকুরী চলে যাওয়ার নজির কম)।

স্বাধীন পেশা হিসেবে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীরা করোনা ভাইরাস এর সম্মুখ সারির যোদ্ধা এবং তারা সরকারি বা বেসরকারি কোন না কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নিকট থেকে বেতনাদি পেয়ে আসছেন।

পুলিশ সহ অন্য যে সকল সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা তারাও বেতনভুক্ত। স্বাধীন পেশা হিসেবে প্রকৌশলীদের কি অবস্থা সে বিষয়ে সম্মক অবগত নই। সাংবাদিকতা পেশায় যারা জড়িত তাদের বেশিরভাগ ই কোন না কোন পত্রিকা বা মিডিয়া থেকে বেতনভোগী। গ্রামে গঞ্জে যারা সাংবাদিকতা করছে তারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি ভিন্ন পেশার সাথেও জড়িত।

প্রকারান্তরে বিচার বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত আইনজীবীদের অবস্থা ভয়াবহ। দেশে প্রায় ৭০ হাজার আইনজীবী আছেন। আইনজীবী হওয়ার জন্য অপেক্ষাধীন আছেন আরো প্রায় ৮০/৯০ হাজার। ৮০% আইনজীবী আবার ২০১০ সালের পর নিবন্ধিত। পেশা হিসেবে আমরা সকলেই অবগত প্রথম ১০ বছর আইন পেশায় টিকে থাকতে হলে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। এ ১০ বছর পেটে ভাতে চলতে হয়, পরের ১০ বছর কিছু উপার্জন করা যায়, তার পরের ১০ বছর আর আর্থিক সমস্যা তেমন থাকেনা। সে হিসেবে প্রায় ২/৫ হাজার আইনজীবী আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী।

একটি ছেলে ডাক্তারী পাশ করে কোন ওষুধের দোকানে বসলেও নূন্যতম ২০০ টাকা ভিজিট পেয়ে জীবন শুরু করতে পারেন। একটি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছেলেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে কখনোই বেকার থাকতে হয় না। কিন্তু প্রথম ১০ বছর ওকালতি করা আইনজীবীকে কেউ পরামর্শ ফি দিয়েছেন, এমন নজির বিরল!

করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে কোর্ট চালু আছে। আমাদের দেশেও বেশ ভালো ভাবেই ভার্চ্যুয়াল কোর্ট চলছিল। করোনায় ২য় ঢেউয়ে স্বাভাবিক ভার্চ্যুয়াল কোর্ট কে সীমিত করা হয়েছে। জুনিয়র আইনজীবী ও বিচার প্রার্থী জনগণের সুবিধার্থে দেশের সকল আদালত ভার্চ্যুয়ালী চালু করা যায় কিনা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন আশা করি।

জীবিকা না থাকলে জীবন টিকিয়ে রাখবো কিভাবে?

লেখকঃ মোঃ জিশান মাহমুদ, আইনজীবী,বাংলাদেশ সু্প্রিম কোর্ট,সদস্য সচিব, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইনজীবী সমিতি,সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আইন সমিতি,উপ-আইন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com