সদ্য সংবাদ
Home / ভিডিও সংবাদ / ক্রাইম নিউজ / কফিশপের আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ

কফিশপের আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা পাহাড়ি এলাকায় কফিশপ চালানোর আড়ালে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য নব্য জেএমবিকেও তাদের সঙ্গে একত্রিত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার আগেই পুলিশের হাতে পড়ে যায় চক্রটি।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। আগের দিন বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ওই চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শাহীন আলম ওরফে ওমর, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. হানিফুজ্জামান ওরফে বিপ্লব ও মো. আল মামুন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

বিকালে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তাদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলেন সিটিটিসি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার শাহীন আলম ওরফে ওমর দক্ষিণ কোরিয়ার আংশু ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবিকে এক করতে চেয়েছিলেন। এজন্য সম্প্রতি তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার সবাই আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সেল হিসেবে কাজ করছিলেন। কথিত শায়েখের নির্দেশে তারা ট্রেনিং নিয়েছেন। চার জনের নেতা শাহীন আলম। তিনি ফেসবুকে একটি গ্রুপ তৈরি করে। পরে এই গ্রুপের মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের মূল নেতাদের সঙ্গে তার সংযোগ হয়। কিছু দিন আগে দেশে ফিরে আসে তিনি। দেশে ফিরে হিজরত করার জন্য আরও কিছু লোককে উদ্বুদ্ধ করেন।

গ্রুপটি সুন্দরবন ও বান্দরবানে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে সিটিটিসির তদন্ত কর্মকর্তারা। সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রুপটি সুন্দরবনের করমজল এলাকায় প্রথমে সাত দিনের ট্রেনিং নেয়। তারা মূলত চাপাতি ব্যবহার করে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও ব্যবহার কম করেছে। বোমা ব্যবহারের প্রমাণ আমরা আগে পাইনি। সুন্দরবনের পর বান্দরবানের আলীকদমে একটি জায়গা লিজ নেন তারা। সেখানে কফিশপের আড়ালে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম ও ট্রেনিংয়ের কাজ করতেন। এ সময় তারা এক মাসের প্রশিক্ষণ নেন।

তিনি জানান, আনসার আল ইসলাম গঠিত হওয়ার পর তারা ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এই গ্রুপও চাপাতি ও অন্যান্য ফিজিক্যাল প্রশিক্ষণ নেয়। এ ছাড়া ধর্মের অপব্যাখ্যার কাজটিও তারা পুরোপুরিভাবে করছিলেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, শাহীন আলম ছাড়া বাকি তিনজনের একজন সাইফুল ইসলাম। তিনি একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং হানিফুজ্জামান ও আল মামুন কলেজের (এইচএসসি) ছাত্র। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা থেকে হানিফুজ্জামানের বিপ্লবের একটি জিডি আমরা পেয়েছি। যাওয়ার আগে তার এক বন্ধুর কাছে বলে গিয়েছিল সুন্দরবন এলাকায় প্রশিক্ষণে যাচ্ছে।

যে শায়েখের নির্দেশে শাহীন আলম ও তার গ্রুপের সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল সেই শায়েখকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এরা যেসব ডিভাইস ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করত আমরা সেগুলো সংগ্রহ করেছি।

এই শায়েখের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের নেতা সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক মেজর জিয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সিটিটিসি প্রধান বলেন, এই কথিত শায়েখকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। কারণ, আপনারা জানেন এদের যে নেতা থাকে সেই মূলত তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজটা করে থাকে। এরা সিøপারসেলের মতো করেই কাজ করে। কথিত শায়েখকে গ্রেফতার করা গেলে জানা যাবে মেজর জিয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা।

কী উদ্দেশ্য নিয়ে তারা সংগঠিত হচ্ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যেহেতু তাদের কথিত টার্গেটকে হত্যা করতে পারেনি বা আক্রান্ত করতে পারিনি, তাই এই কাজ করার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের একটা পরিকল্পনা ছিল তাদের। তারা প্রাথমিকভাবে বলেছে, এই সরকার মুরতাদ সরকার। পাশাপাশি তাদের ভাষায় নাস্তিক, ব্লগার যারা আছে তাদের পুনরায় টার্গেট করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

About bdlawnews

Check Also

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মোবাইল ফোনে সম্পর্কের পর ডেকে নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com