সদ্য সংবাদ
Home / রাজনীতি / শাওন-শামসুলসহ অর্ধশতাধিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

শাওন-শামসুলসহ অর্ধশতাধিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজিসহ অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন- সন্দেহভাজন এমন অর্ধশত ব্যক্তিকে নিয়ে অনুসন্ধানে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। ।

এ তালিকায় যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, চট্টগ্রামের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক জিকে শামীম, তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ও মা আয়েশা খাতুনেরও।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব সন্দেহভাজন ব্যক্তি অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বিদেশে অর্থপাচার করেছেন তারা অনুসন্ধানের আওতায় আসছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং র‌্যাবের সঙ্গেও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন দুদক কর্মকর্তারা।

কমিশনের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য থেকে যেসব অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে, এমন ৪৬ জনের একটি তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। এ সংখ্যাটি আরও বাড়বে। ওই ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ এবং মুদ্রা পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কমিশন মামলা করবে।

এর আগে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলার সময় ভোলার এমপি শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে চট্টগ্রামে আবাহনি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন হুইপ সামশুল হক। ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ, সহসভাপতি এনামুল হক আরমানের নামও রয়েছে দুদকের তালিকায়।

এ ছাড়া এ তালিকায় নাম আছে আরেক বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জিকে শামীমসহ আলোচিত ঠিকাদারকে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের।

দুদক সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. কাওসার, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা এ কে এম মোমিনুল হক ওরফে সাঈদ কমিশনার, আরেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুলের সম্পদের খোঁজও নেবে দুদক।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ এবং তাদের সহযোগীদের নামও তালিকায় রয়েছে বলে দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ক্যাসিনো পরিচালনায় জড়িতদের সম্পদের অনুসন্ধানে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক উদ্যোগ নেয় দুদক।

দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খানকে তদারক কর্মকর্তা ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সেদিন একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সালাউদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী ও মামুনুর রশিদ চৌধুরী।

এক প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেন, বিভিন্ন সংস্থা থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নাম পেয়েছি। যাদের সাথে আমাদের চুক্তি আছে, পত্রপত্রিকা, নিউজ চ্যানেলে আসা সংবাদ সংগ্রহ করে তাদের তথ্য নেওয়া হয়েছে। সেই অনুসারে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

সচিব বলেন, তাদের (অবৈধ সম্পদের মালিক) তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।এরপর আমাদের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দেখবেন তারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে কি না, করে থাকলে সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার করেছে, তা খুঁজে বের করবেন।

অনুসন্ধানে তথ্যপ্রমাণ মিললে ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হবে বলে জানান দুদক সচিব।

কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে এনবিআর থেকে আয়কর নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই সেই তালিকা ধরে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়া হবে। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তারা তলবও করবেন।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান দুদক প্রধান কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বিএফআইইউ প্রধান আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের দেখা দেখা করেছেন। তিনি কয়েক ঘণ্টা কমিশনে ছিলেন। তবে কী বিষয়ে তারা কথা বলেছেন তা আমার জানা নেই।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, বিএফআইইউ প্রধান চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে মানলিন্ডারিং সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দুদক চেয়ারম্যানের কাছে সরবরাহ করেছেন। ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যও অবহিত করেছেন তিনি।

এর আগে বুধবার র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন।ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে যাদের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে, তাদের বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান।

About bdlawnews24

Check Also

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com