সদ্য সংবাদ
Home / জাতীয় / সংগ্রাম পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত: কাদের

সংগ্রাম পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত: কাদের

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে শহীদ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শনিবার সকালে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার সংগ্রাম পত্রিকার প্রথম পাতায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এর প্রতিবাদে দৈনিক সংগ্রাম নিষিদ্ধ এবং এর সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল পত্রিকা অফিসটি ঘেরাও করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। মগবাজারে অবস্থিত পত্রিকা অফিসটি ভাঙচুর করার পর সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় সংগঠনটি। এছাড়া পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে হাতিরঝিল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিবেদনটির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন আমরা এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ সময় বুদ্ধিজীবীরা যে স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের সে স্বপ্ন এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখনও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়াচ্ছে সারা বাংলাদেশে। এই সাম্প্রাদায়িক অপশক্তিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করা, পরাজিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আজ আমাদের শপথ হবে আমরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে মূলোৎপাটিত করবো এবং সেই লক্ষ্যে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করব।’

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘যে খুনিরা আজকে বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি এর কারণ আছে। সেটি হচ্ছে যে দেশে তারা পালিয়ে আছেন সে দেশের আইনগত বাধা আছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তকে আনা আইনে অ্যালাউ করে না। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে যারা পালিয়ে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে একটু অগ্রগতি আছে। আমরা বোধ হয় তাদের তাড়াতাড়িই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা জাতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান সন্তানদের স্মরণ করছে। আজকে আমাদের মনে রাখতে হবে যে সেদিন আক্রান্ত হয়েছিল আমাদের মেধা, মনীষীরা, আমাদের বুদ্ধিমত্তা। জাতিকে মেধাশূন্য করে দেয়ার জন্য সেদিন পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পলায়নপর অবস্থায় পরাজয়ের মুখে আমাদের জাতির মেধা ও মনীষীদের ধ্বংস করার চক্রান্ত করেছিল। সেটাই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

About bdlawnews24

Check Also

ডি-এইট বা উন্নয়নশীল আট দেশের জোট এর সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডি-এইট বা উন্নয়নশীল আট দেশের জোট এর সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার বছরের জন্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com