সদ্য সংবাদ
Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তে আয়ের পার্থক্য ১ লাখ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তে আয়ের পার্থক্য ১ লাখ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। এ শ্রেণীতে প্রাপ্তবয়স্ক বা উপার্জনক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি । তা সত্ত্বেও দেশটিতে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আয়ের বৈষম্য বাড়ছেই। মাত্র ১৯ শতাংশ উচ্চবিত্তের সঙ্গে মধ্যবিত্তের আয়ের পার্থক্য এক লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০১৬ সালেই বাৎসকির উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের গড় আয়ে পার্থক্য ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ ডলার। আর নিম্নবিত্তের সঙ্গে উত্তবিত্তের আয়ের পার্থক্য ছিল ১ লাখ ৬২ ডলার ২৪৮ ডলার।

২০১১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংখ্যায় বা আয়ে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তবে এ সময়ে সংখ্যায় খুব একটা না বাড়লেও উচ্চশ্রেণীর মাথাপিছু আয় বেড়েছে বিস্তর। এতে উচ্চবিত্তের সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের  আয় বৈষম্য আরো বেড়ে গেছে। তাছাড়া ২০১১ সাল থেকে আয় বৈষম্যের যে প্রবণতা বিদ্যমান তাতে গত চার বছরে এ বৈষম্য আরো বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রাপ্তবয়স্কের অর্ধেকের বেশি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। ২০১৬ সালে  মার্কিন মধ্যবিত্ত প্রাপ্তবয়স্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশ। যা ২০১১ সালের পর থেকে কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে। ওই সময়ে এর সংখ্যা ছিল  ৫১ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন মধ্যবিত্তের সংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলও এ সময়ে উচ্চবিত্তের তুললায় তাদের আয় বাড়েনি।

তবে দশকের হিসাবটা একটু অন্যরকম। গত কয়েক দশকের ব্যবধানে মধ্যবিত্তে প্রাপ্তবয়স্কের হার কিছুটা কমেছে। ১৯৭১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ শ্রেণীতে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। ১৯৭১ সালে মধ্যবিত্তের হার ছিল ৬১ শতাংশ। ২০১৬ তে কমে ৫২ শতাংশে নেমেছে।  এর পরিবর্তে এ সময়ে উচ্চবিত্ত পরিবারে প্রাপ্তবয়স্কদের হিস্যা বেড়েছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতিরই নির্দেশ করে।

তবে, আলাদাভাবে দেশটির মধ্যবিত্তরা অর্থনৈতিকভাবে খুব একটা আগায়নি। যদিও ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের হিসাবটা এক্ষেত্রে আলাদা। এ সময়ের মধ্যে মোটামুটি সচ্ছল অবস্থানে আসতে পেরেছে এ শ্রেণী। যদিও তা অবশ্যই উচ্চবিত্তের পর্যায়ে নয়।  এ সময়ে দেশটির প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার বাৎসরিক আয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। ২০১০ মার্কিন মধ্যবিত্তের আয় ছিল ৭৪ হাজার ১৫ ডলার। আর ২০১৬ তে এসে তা ৭৮ হাজার ৪৪২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে ১৯ শতাংশ উচ্চবিত্তের আয় বেড়েছ ৯ শতাংশ। ২০১০ যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ১৫২ ডলার। ২০১৬ তে এসে এর পরিমাণ বেড়ে  ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭২ ডলারে উন্নীত হয়েছ। এদিকে একই সময়ে নিম্নবিত্তের আয় বৃদ্ধি হার তুলনামূলক কম। ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত এ শ্রেণীর আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।

এদিকে ২০১৬ সালের মার্কিন মধ্যবিত্তের আয় ২০১০ সালের তুলনায় বাড়লওে ২০০০ সালের তুলনায় বাড়েনি। এ পেছনে অবশ্য ২০০১ সালের শুরুর দিকে দেশটির অর্থনৈতিক মহামন্দাকে দায়ী করা হয় । একই পরিস্থিতি বিদ্যমান নিম্নবিত্ত পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রেও। ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের নিম্নবিত্তের বাৎসরিক আয় ছিল ২৫ হাজার ৬২৪ ডলার। ২০০০ সালে যা ছিল ২৬ হাজার ৯২৩ ডলার।  ব্যতিক্রম ঘটেছে কেবল উচ্চবিত্তের ক্ষেত্রে। ২০০০ সালে এ শ্রেণীর আয় ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮০ ডলার। আর ২০১৬ তে এসে তা বেড়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে শতকের মার্কিনদের মধ্যে এ আয় বৈষম্যের পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি; গত কয়েক দশকের ধারাবাহিক প্রবণতার ফল এটি। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থ ‍পিউ ‍রিসার্স সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী,  ১৯৭০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উচ্চবিত্তের আয় বেড়েছে মধ্যবিত্তের তুলনায় ২ দিশমিক ২ গুণ।  নিম্নবিত্তের তুলনায় যা  ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। ফলে ২০১৬ সালে এসে এ ব্যাবধান আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। এ সময়ে উচ্চবিত্তের আয়ের সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আয়ের বৈষ্যমের অনুপাত দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ ও ৭ দশমিক ৩।

About bdlawnews24

Check Also

সেনাপ্রধানের কাছে ভারতের একলাখ ডোজ টিকা হস্তান্তর

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ভারতে উৎপাদিত একলাখ ডোজ করোনার টিকা হস্তান্তর করেছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com