সদ্য সংবাদ
Home / আইন পড়াশুনা / বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা যেভাবে

বহুদিন ধরেই চলছে আলোচনা। এবার তার বাস্তবায়ন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের আর ছুটে বেড়াতে হবে না দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। এবার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’ চালুর বিষয়ে এরই মধ্যে একমত হয়েছেন উপাচার্যরা। এ জন্য নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তারা। এ পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পৃথক পরীক্ষায় আর অংশ নিতে হবে না। এতে তাদের ভোগান্তি কমবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে।

অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালু করার দাবিটি ছিল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সব বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহার কারণে তা চালু করা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি বাবদ কোটি কোটি টাকার আয় ছাড়তে নারাজ ছিল বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়। অবশেষে গত ২৩ জানুয়ারি উপাচার্যরা ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে একমত হন।

উপাচার্যদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এ বছর থেকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু হবে। এ জন্য একটি প্রস্তাবমালা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রস্তাবমতে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার ভিত্তিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন হবে। ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে। মডিউল পদ্ধতিতে সারাদেশে একযোগে দু’দিন সকাল ও বিকেলে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। ভর্তিচ্ছুদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রথম দিন সকালে বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও গণিত এবং বিকেলে চিত্রাঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। বিকেলে কেবল ব্যবসায় বিভাগের জন্য অ্যাপটিটিউট (স্বাভাবিক জ্ঞান) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এ সপ্তাহে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে আবারও ইউজিসিতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে না থাকলেও ভর্তির আবেদনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভর্তিচ্ছুদের জন্য ‘১০টি বিশ্ববিদ্যালয়’ ও একাধিক ‘বিষয়’ পছন্দের সুযোগ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

ইউজিসি প্রণীত প্রস্তাবে দেখা যায়, ইউজিসির আয়োজনে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্দিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ের অপশন চেয়ে আবেদন আহ্বান করা হবে। প্রতিটি গুচ্ছের জন্য অপশনসহ মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। মডিউল সিস্টেমে দু’দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তার প্রতিটি গুচ্ছের মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। তারপর অপশন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট লিস্ট তৈরি করে সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্লেসমেন্ট লিস্ট প্রকাশ করার পর শিক্ষার্থীদের দু’দিনের মধ্যে বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করে সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জানাতে বলা হবে। বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত হলে তারপর ভর্তি শুরু হবে।

ভর্তিচ্ছুদের সুবিধার জন্য রাজধানীর বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত একটি বুথ তৈরি করা হবে। পরীক্ষার জন্য ১০টি প্রশ্ন সেট প্রণয়ন করা হবে। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে যে কোনো একটি সেট নির্বাচন করা হবে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে। ভর্তিচ্ছুরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করবে। পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।

পরীক্ষা আয়োজন-সংক্রান্ত বিষয়ে ইউজিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য অথবা বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকবেন, অন্য উপাচার্যরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। সদস্য সচিব উপাচার্যদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটিতে আবার প্রশাসনিক ও কারিগরি কমিটি থাকবে। ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসন সংখ্যা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। আসনের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফল অনুযায়ী মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

  • আবেদন করতে হবে অনলাইনে
  • পরীক্ষা হবে দু’দিনে
  • ঢাকায় ভর্তি-সংক্রান্ত বুথ করা হবে

সেন্ট্রাল কমিটি বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র তৈরি, ভিন্ন ভিন্ন গুচ্ছের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদনপত্র আহ্বান ও যাচাই-বাছাইকরণ, শিক্ষার্থীদের নামের পাশে কোড দেওয়া এবং মেধাতলিকা তৈরি করবে। এ ছাড়া স্থানীয় কমিটিতে খাতা দেখা ও ফল প্রসেসিংয়ে সাবকমিটি গঠন করা হবে। কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা নেওয়ার আগে এসব কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে স্থানীয় কমিটি পরীক্ষা নেওয়া, কোডের খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা, ফল প্রসেসিংকরণ ও তা যথাস্থানে পাঠানোর কাজ করবে।

আইন অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত হওয়ায় ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’ নিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজ নিজ সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অর্ডিন্যান্সে পরিচালিত হয়। তাই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আসা যাবে কিনা, সে বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তি কমবে। তবে বুয়েট এ পদ্ধতির আওতায় আসবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলেও জানান তিনি।

বুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, বহুদিন ধরে সবাই চাইছেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হোক। অবশেষে সেটা হচ্ছে, এতে আমরা আনন্দিত। কিন্তু এখন ভর্তি পরীক্ষার মাত্র চার মাস আগে হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। এত অল্প সময়ে এত বড় পরীক্ষার আয়োজন করা সহজ কথা নয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, দেশ ও জাতির আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা। এটা সময়ের দাবি। এখানে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। ২৩ জানুয়ারির আলোচনায় মনে হয়েছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালুর ব্যাপারে একমত। এ ব্যাপারে বিস্তারিত রোডম্যাপ আমরা শিগগিরই ঘোষণা করতে পারব। এ নিয়ে কমিটি কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে আবারও বৈঠকে বসা হবে বলে জানান তিনি।

ইউজিসির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬টি। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১৫টি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচটি, নতুন পাঁচটিসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০টি। এ ছাড়া মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চারটি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় একটি, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় একটি এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে ছয়টি কৃষি ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছর গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে।

About bdlawnews

Check Also

থার্টিফার্স্ট নাইট ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার

ইংরেজি বছরের শেষ রাত থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানীতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com