সদ্য সংবাদ
Home / উচ্চ আদালত / পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের আদেশ বহাল

পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের আদেশ বহাল

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ২০ জনের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে তাদের আয়কর জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগের আদেশও বহাল থাকছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

যে ২০ জনের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং পাসপোর্ট আটকানোর আদেশ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পিকে হালদার ছাড়াও রয়েছেন- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, আবুল হাসেম, মো. রাশেদুল হক, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রীতিশ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ ও পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি ওই ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এছাড়াও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দিয়েছিলেন আদালত।

বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এছাড়াও এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। এরপর এ আদেশ স্থগিত চেয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পক্ষে আপিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, পি কে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। তিনি প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রভৃতি।

পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ওই সব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এদিকে দেশব্যাপী ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় পিকে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

About bdlawnews

Check Also

অধস্তন আদালতে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ ভার্চ্যুয়ালি

অধস্তন আদালতে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ ভার্চ্যুয়ালি নিষ্পত্তি করা হবে বিষ‌য়ে প্রজ্ঞাপনে তথ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com