সদ্য সংবাদ
Home / রাজনীতি / রাজনীতির ফাঁকা মাঠেও কঠোর নজরদারি আওয়ামী লীগের

রাজনীতির ফাঁকা মাঠেও কঠোর নজরদারি আওয়ামী লীগের

সর্বত্রই ফাঁকা মাঠ! রাজপথে নেই রাজনৈতিক শক্ত প্রতিপক্ষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশের রাজনীতির মাঠ একেবারে নীরব, চুপচাপ। কোথাও কোনো রাখঢাক নেই। বিরোধী দলের ফুঁসফাঁসও কম। সীমিত পরিসরে সভা-সেমিনারে রাজনৈতিক বক্তৃতাবাজি ছাড়া সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি নেই বললেই চলে। এক প্রকার নীরব সময় পার করছে দেশের রাজনৈতিক মাঠ।

সরকারবিরোধী শিবিরগুলো নানা সময়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও মাঠে নামতে পারেনি। যার কারণে মাঠের রাজনীতিতে খোশ মেজাজে রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। তবে নীরব মাঠকে নিজেদের জন্য স্বস্তির দেখছেন না দলটির হাইকমান্ড। তাই স্থিতিশীল রাজনীতির মাঠও কঠোর নজরদারিতে রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সহযোগী সংগঠনসহ তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড মনে করছেন, বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তত্পরতা এবং রাজপথে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা কৌশল বদল করেছে। সামাজিক নানা ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে।

এদিকে দেশের আনাচে-কানাচে, হাটে-বাজারে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, চায়ের আড্ডায় সর্বত্র আলোচনার বিষয়বস্তু হলো—নীরব রাজনীতির মাঠে কী হতে চলেছে? আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর পাঁচ জন সদস্য ইত্তেফাককে জানান, রাজনীতির মাঠ নীরব থাকলেও বিরোধী পক্ষ কি করছে তা পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য সারাদেশে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতা সম্প্রতি একাধিক সভা-সমাবেশ ও আলোচনায় বিরোধী পক্ষ নানা অপতত্পরতায় লিপ্ত বলে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নিশ্চুপ থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা করে রাখছে। একের পর এক ইস্যুতে গোটা দেশ ক্ষমতাসীনদের দিকে রাখতে চেষ্টা করছে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়, প্রশংসনীয় সরকার গঠন, উপজেলা নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলেছে দলটি। এরই মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা উত্সবে নতুন উত্তাপ এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতি থেকে কেন্দ্র পুরোটাই সরগরম হয়ে উঠছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নানা ইস্যুতে চাঙ্গা থাকলেও কেন্দ্রের নজর সরকারবিরোধী দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর প্রতি। কয়েকমাস আগেও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নানা ধরনের তত্পরতা দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে নীরব রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির নীরবতাকে নানা অপকৌশল হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

নিজেরা ব্যর্থ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গুজবকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে একটি মহল। নানা ইস্যুতে গুজব রটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াতের হাত রয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের। সূত্র জানায়, চলমান ডেঙ্গু জ্বর ইস্যু নিয়েও সরকারকে বিব্রত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। এ ইস্যুতে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দিতে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা। এর আগে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজবে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করে একটি মহল। গুজব ছড়িয়ে কয়েকটি স্থানে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি নেতাদের যোগসূত্র পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকটি দলীয় নেতাদের মনোভাব ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যার পেছনেও বিএনপির জড়িত থাকার ইন্ধন পাওয়া গেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

About bdlawnews24

Check Also

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

Powered by themekiller.com